নতুন মন্ত্রী পরিষদের তালিকা ২০২৬

২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তাঁর নেতৃত্বে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে মোট ৫০ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছে।

নতুন মন্ত্রিসভা কবে ও কোথায় শপথ নিল?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান হয়। ঐতিহ্যগতভাবে বঙ্গভবনে শপথ হলেও এবার প্রথমবারের মতো সংসদ প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয়, যা ছিল স্বচ্ছতা ও জনসম্পৃক্ততার প্রতীকী বার্তা। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ করান।

নতুন মন্ত্রী পরিষদের পূর্ণ তালিকা ২০২৬

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পূর্ণমন্ত্রীদের তালিকা ও তাঁদের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়:

মন্ত্রীর নামমন্ত্রণালয়
তারেক রহমান (প্রধানমন্ত্রী)মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরস্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীঅর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়
সালাহউদ্দিন আহমদস্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
ইকবাল হাসান মাহমুদশিক্ষা মন্ত্রণালয়
হাফিজ উদ্দিন আহমদমুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়
আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনস্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
ড. খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট)পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
মোহাম্মদ আমীন উর রশীদ (টেকনোক্র্যাট)শিল্প মন্ত্রণালয়
আফরোজা খানম রিতাবেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়
খলিলুর রহমান মিনু (মিজানুর রহমান মিনু)সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়
খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়
আরিফুল হক চৌধুরীপরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়
জহির উদ্দিন স্বপনবস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়
আমিনুর রশিদ ইয়াসিনতথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়
শহীদউদ্দিন চৌধুরী অ্যানিআইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়
মো. আসাদুজ্জামানধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়
জাকারিয়া তাহেরপ্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়
দীপেন দেওয়ানপার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়
ফকির মাহবুব আনামগৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়
সরদার সাখায়াত হোসেন বকুলমৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়
শেখ রবিউল আলমসড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়
আবদুল আউয়াল মিন্টুবাণিজ্য মন্ত্রণালয়
ইশরাক হোসেনযুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়
এহসানুল হক মিলনকৃষি মন্ত্রণালয়

⚠️ দ্রষ্টব্য: মন্ত্রণালয় বণ্টনে কিছু তথ্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিন্নভাবে প্রকাশিত হয়েছে। চূড়ান্ত তথ্যের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অফিশিয়াল প্রজ্ঞাপন দেখুন।

প্রতিমন্ত্রীদের তালিকা ২০২৬ (২৪ জন)

প্রতিমন্ত্রীর নামমন্ত্রণালয়
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতবেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়
অনিন্দ্য ইসলাম অমিতবিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়
মো. শরিফুল আলমবাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়
শামা ওবায়েদ ইসলামপররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়
ব্যারিস্টার কায়সার কামালভূমি মন্ত্রণালয়
ফরহাদ হোসেন আজাদপানি সম্পদ মন্ত্রণালয়
মো. আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট)যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়
মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনপার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়
হাবিবুর রশিদসড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়
মো. রাজীব আহসানস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
মো. আব্দুল বারীশিক্ষা মন্ত্রণালয়
মীর শাহে আলমস্থানীয় সরকার বিভাগ
নুরুল হক নুরগণঅধিকার পরিষদ (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা)
জোনায়েদ সাকিগণসংহতি আন্দোলন (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা)
ববি হাজ্জাজএনডিএম (বিএনপি মনোনয়নে নির্বাচিত)
(অবশিষ্ট প্রতিমন্ত্রীগণ)প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত

নতুন মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈশিষ্ট্য কী?

এবারের মন্ত্রিসভাটি কয়েকটি কারণে আলোচনায় এসেছে। প্রথমত, ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রীর মধ্যে ১৬ জনই প্রথমবার মন্ত্রীর দায়িত্ব নিচ্ছেন। দ্বিতীয়ত, ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর সবাই সম্পূর্ণ নতুন মুখ। তৃতীয়ত, টেকনোক্র্যাট কোটায় তিনজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে অভিজ্ঞ কূটনীতিক ড. খলিলুর রহমান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

মন্ত্রিসভায় তিন প্রজন্মের রাজনীতিকদের মিশেল দেখা গেছে প্রবীণ নেতা থেকে শুরু করে তারুণ্যের প্রতিনিধি পর্যন্ত। গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর এবং গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি-র মতো যুগপৎ আন্দোলনের শরিক নেতাদেরও মন্ত্রিসভায় রাখা হয়েছে, যা জোটরাজনীতির প্রতি সরকারের দায়িত্বশীলতার প্রমাণ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোন কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজের হাতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পোর্টফোলিও রেখেছেন:

  • মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ
  • প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
  • সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ

এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, কারণ দেশের নিরাপত্তা ও প্রশাসন সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।

নতুন সরকার কীভাবে ক্ষমতায় এলো?

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও তার জোট ৩০০টি আসনের মধ্যে ২১২টি আসনে জয় পায়। এটি বিএনপির প্রায় ২০ বছর পর ক্ষমতায় ফেরার ঘটনা। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর ১৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন, এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখযোগ্য যে, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শপথ অনুষ্ঠান বর্জন করে।

টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী কারা?

এবারের মন্ত্রিসভায় তিনজন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী রয়েছেন:

  • ড. খলিলুর রহমান — অন্তর্বর্তী সরকারে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেছেন। সংসদ সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।
  • মোহাম্মদ আমীন উর রশীদ — শিল্প মন্ত্রণালয়ে পূর্ণমন্ত্রী।
  • মো. আমিনুল হক — যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী।

সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মন্ত্রিসভার এক-দশমাংশ পর্যন্ত টেকনোক্র্যাট নিয়োগ করা সম্ভব।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

২০২৬ সালের বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কে?

তারেক রহমান। তিনি ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

নতুন অর্থমন্ত্রী কে?

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।

নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কে?

সালাহউদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন।

নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কে?

ড. খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শামা ওবায়েদ ইসলাম।

নুরুল হক নুর কি মন্ত্রী হয়েছেন?

হ্যাঁ। গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন।

মন্ত্রিসভায় মোট কতজন সদস্য আছেন?

প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ৫০ জন। এর মধ্যে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী।

জোনায়েদ সাকি মন্ত্রী হয়েছেন?

হ্যাঁ। গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন।

নতুন শিক্ষামন্ত্রী কে?

ইকবাল হাসান মাহমুদ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন।

মির্জা ফখরুল কোন মন্ত্রণালয় পেলেন?

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।

মন্ত্রিসভা গঠনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশের মন্ত্রিসভা সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি মন্ত্রীদের নিয়োগ দেন। এবারের মন্ত্রিসভায় নতুন মুখের সংখ্যাধিক্য একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য — ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রীর মধ্যে মাত্র ৯ জনের আগে মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতা ছিল। বাকি ১৬ জন প্রথমবারের মতো মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব নিচ্ছেন।

২০০১ সালে বিএনপির মন্ত্রিসভায় ৬০ জন সদস্য ছিলেন, যা ছিল সমালোচিত। এবার সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তুলনামূলকভাবে ছোট আকারের মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে।

নতুন সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ কী?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই বলেছেন, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। এর বাইরে নতুন সরকারের সামনে কয়েকটি প্রধান চ্যালেঞ্জ রয়েছে:

  • অর্থনীতি পুনরুদ্ধার: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ানো।
  • বিচার বিভাগ সংস্কার: আইন মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে বিচার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা।
  • রাজনৈতিক সমঝোতা: বিরোধী দল ও অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ বজায় রাখা।
  • পররাষ্ট্র নীতি: প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন।

শেষকথা

১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। প্রায় দুই দশক পর বিএনপির ক্ষমতায় ফেরা এবং তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। ৫০ সদস্যের এই মন্ত্রিসভা অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেলে গঠিত, যা দেশবাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে।

বিশ্বাসযোগ্য সূত্র:

  • প্রথম আলো (prothomalo.com) — ১৭-১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • দ্য ডেইলি স্টার বাংলা (bangla.thedailystar.net) — ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • বাংলাদেশ প্রতিদিন (bd-pratidin.com) — ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সরকারি প্রজ্ঞাপন, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Leave a Comment