চরক পূজা কত তারিখে ২০২৬

২০২৬ সালে চরক পূজা (চড়ক পূজা) পালিত হবে ১৩ই এপ্রিল, সোমবার। এটি বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী ৩০শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ চৈত্র সংক্রান্তির দিন। এর আগের দিন, ১২ই এপ্রিল (রবিবার), পালিত হবে নীল পূজা। উৎসব চলবে ১৪ই এপ্রিল পহেলা বৈশাখ পর্যন্ত।

বাংলার এমন একটি পূজা আছে, যেখানে মানুষ স্বেচ্ছায় পিঠে বড়শি গেঁথে শূন্যে ঘুরতে থাকেন শুধুমাত্র ভগবান শিবের প্রতি ভক্তি প্রকাশের জন্য!

এই পূজার নাম চরক পূজা বা চড়ক পূজা। শত শত বছর ধরে বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের গ্রামে গ্রামে এই লোকোৎসব পালিত হয়ে আসছে।

অনেকেই জানতে চান “২০২৬ সালে চরক পূজা কত তারিখে?” বা “চড়ক পূজার আচার-অনুষ্ঠান কী কী?”

চলুন শুরু করা যাক।

চরক পূজা কত তারিখে ২০২৬

২০২৬ সালের চরক পূজার তারিখ ও সময়সূচি

চড়ক পূজা বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী প্রতিবছর চৈত্র সংক্রান্তিতে বা চৈত্র মাসের শেষ দিনে অনুষ্ঠিত হয়।

২০২৬ সালে বাংলা বছরের শেষ দিন, অর্থাৎ ৩০শে চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ পড়েছে ১৩ই এপ্রিল (সোমবার) আর সেদিনই পালিত হবে চরক পূজা।

📅 ২০২৬ চরক পূজার সম্পূর্ণ সময়সূচি

অনুষ্ঠানতারিখবাংলা তারিখবার
নীল পূজা১২ এপ্রিল ২০২৬২৯শে চৈত্র ১৪৩২রবিবার
চরক পূজা (চৈত্র সংক্রান্তি)১৩ এপ্রিল ২০২৬৩০শে চৈত্র ১৪৩২সোমবার
চরক উৎসব (শেষ দিন)১৪ এপ্রিল ২০২৬১লা বৈশাখ ১৪৩৩মঙ্গলবার

গুরুত্বপূর্ণ নোট: চৈত্র সংক্রান্তিতে চরক পূজা হয় এবং বৈশাখের প্রথম দু-তিন দিনব্যাপী চড়ক পূজার উৎসব চলে। তাই ১৩ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে এই উৎসব উপভোগ করা যাবে।

চরক পূজা কী?

চরক পূজা শুনলে অনেকেই ভাবেন এটা বুঝি কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান। আসলে এটি ধর্ম আর লোকসংস্কৃতির এক অনন্য মিলন।

চড়ক পূজা পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লোকোৎসব।

এটি চৈত্র মাসে পালিত হিন্দু দেবতা শিবের গাজন উৎসবের একটি অঙ্গ।

সহজ কথায় বলতে গেলে:

  • দেবতা: ভগবান শিব (মহাদেব)
  • মূল উদ্দেশ্য: শিবের কাছে মনোবাসনা পূরণের প্রার্থনা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
  • বিশেষত্ব: দেহে বড়শি গেঁথে চরক গাছে দোলানো — এক অনন্য ভক্তির প্রকাশ
  • মেলা: এই উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে মেলা বসে, যা চড়ক সংক্রান্তির মেলা নামে অভিহিত।

চরক পূজা কবে থেকে শুরু হলো?

এই প্রশ্নটা অনেকেরই মনে আসে।

চড়ক পূজা কবে কিভাবে শুরু হয়েছিল তার সঠিক ইতিহাস জানা যায়নি। তবে জনশ্রুত রয়েছে, ১৪৮৫ খ্রিস্টাব্দে সুন্দরানন্দ এই পূজার প্রচলন করেন।

চড়ক পূজা মূলত ধর্মের গাজন বা ধর্মঠাকুরের পূজা, পরবর্তীকালে যা রূপান্তরিত হয় শিবের গাজনে। এই ধর্মঠাকুরের উদ্ভব বৌদ্ধ দেবতা ধর্মরাজ থেকে।

আরও মজার বিষয় হলো, কথিত আছে এই দিনে শিব-উপাসক বাণরাজা দ্বারকাধীশ কৃষ্ণের সংগে যুদ্ধে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে মহাদেবের প্রীতি উৎপাদন করে আকাঙ্ক্ষায় ভক্তিসূচক নৃত্যগীতাদি ও নিজ গাত্ররক্ত দ্বারা শিবকে তুষ্ট করে অভীষ্ট সিদ্ধ করেন।

সেই স্মৃতিতেই শৈব সম্প্রদায় আজও এই উৎসব পালন করেন।

চরক পূজার সামাজিক প্রেক্ষাপট

বাউরি, বাগদি, হাঁড়ি, ডোম প্রভৃতি গ্রামীণ মানুষেরা এই ধর্মঠাকুরের পূজা করেন।

গাজন বা চড়কপূজা সাধারণ মানুষের চাওয়া পাওয়ারই এক প্রত্যক্ষ প্রকাশ। এটি আভিজাত্যের পূজা নয় — এটি মাটির মানুষের পূজা।

চরক পূজার আচার-অনুষ্ঠান

এখানে অনেকেরই একটা বড় প্রশ্ন থাকে আসলে পূজার দিন কী কী হয়?

পূজার প্রস্তুতি (কয়েক দিন আগে থেকে)

পূজার উদ্যোক্তা ভক্ত বা সন্ন্যাসীরা চড়ক পূজার কয়েকদিন আগে থেকে কঠোর ব্রত ও সংযম পালন করেন। এই সময়ে তাঁরা নিরামিষ খাবার খান, মাটিতে শুয়ে থাকেন এবং ঈশ্বরের ধ্যানে মগ্ন থাকেন।

গিরি সন্ন্যাস ও বাবর সন্ন্যাস

একজনকে সাজানো হয় হনুমানের মত লম্বা লেজ দিয়ে, তাঁর মাথায় থাকে উজ্জ্বল লাল রঙের ফুল; স্থানবিশেষে রামায়ণ কাহিনির হনুমানের গন্ধমাদন পর্বত আনার দৃশ্য অভিনীত হয়, একে বলে ‘গিরি সন্ন্যাস’।

নীল পূজা (পূজার আগের দিন)

চড়কপূজার আগের দিন নীলচণ্ডিকার পূজা হয় (যা মূলত নীলপূজা নামে পরিচিত), এদিন কয়েকজনের একটি দল সারা গ্রাম ঘুরে বেড়ায়। দলে থাকে একজন শিব ও দু’জন সখী।

সংক্রান্তির দিন শিবের গাজন বা চড়ক পূজা, আর তার আগের দিন নীল পূজা — সেও শিবেরই পূজা।

চরক গাছ প্রস্তুত

পূজার আগের দিন চড়ক গাছটিকে ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করা হয়। এতে জলভরা একটি পাত্রে শিবের প্রতীক শিবলিঙ্গ বা সিঁদুরমথিত লম্বা কাঠের তক্তা (‘শিবের পাটা’) রাখা হয়, যা পূজারিদের কাছে “বুড়োশিব” নামে পরিচিত।

নদীতে স্নান ও শোভাযাত্রা

চড়ক পূজার শুরুতে শিবপাঁচালী পাঠক মন্ত্রপড়া শুরু করলে সন্ন্যাসীরা শিবধ্বনি দিতে দিতে নদীতে স্নান করতে যান। স্নান শেষ করে মাটির কলসি ভরে জল আনেন তারা।

বাণ বিদ্ধ করণ ও চরকায় দোলা

এটাই চরক পূজার সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অংশ।

চড়ক পূজায় পিঠে বাণ ফুড়িয়ে চড়ক গাছের সঙ্গে বাঁশ দিয়ে তৈরি করা বিশেষ এক ধরনের চড়কায় ঝুলন্ত দড়ির সঙ্গে পিঠের বড়শি বেঁধে দেওয়া হয়। তখন বাণ বিদ্ধ সন্ন্যাসীরা শূন্যে ঝুলতে থাকেন।

পূজার বিশেষ অনুষ্ঠান

পূজার বিশেষ বিশেষ অঙ্গ হলো কুমিরের পূজা, জ্বলন্ত অঙ্গারের ওপর হাঁটা, কাঁটা আর ছুঁড়ির ওপর লাফানো, বাণফোঁড়া, শিবের বিয়ে, অগ্নিনৃত্য, চড়কগাছে দোলা এবং দানো-বারনো বা হাজরা পূজা করা।

উপোস ভাঙা

রাতে নীল পূজার পর সন্ন্যাসীরা উপোস থাকেন। পরদিন বিকেলে এ চড়ক পূজা শেষেই উপোস ভাঙেন তারা।

চৈত্র সংক্রান্তি এবং চরক পূজার সম্পর্ক

এ দুটো আলাদা নাকি একই উৎসব? এই প্রশ্নে অনেকেই বিভ্রান্ত হন।

বাংলা বছরের শেষ দিন, অর্থাৎ চৈত্র মাসের শেষ দিনকে বলা হয় চৈত্র সংক্রান্তি।

চৈত্র সংক্রান্তির আরেকটি বিশেষ দিন আছে তা হলো চড়ক পূজা। বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে আয়োজন করা হয় এই চড়ক পূজার। কোথাও কোথাও এই উৎসব উপলক্ষে মেলাও বসে।

সহজ করে বললে চৈত্র সংক্রান্তি হলো দিন, আর চরক পূজা হলো সেই দিনের প্রধান আচার-অনুষ্ঠান।

চৈত্র সংক্রান্তির অন্যান্য রীতি

চৈত্র সংক্রান্তির এই দিনটিতে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের ছেলেদের বোনের হাতে ছাতু খাওয়ার রীতি রয়েছে। ভাইকে আসনে বসিয়ে দই, চিড়া, মুড়ি, খই, বাতাসা, মিষ্টিতে সাজানো একটি প্লেট ভাইয়ের সামনে তুলে দেন বোনেরা।

চৈত্র সংক্রান্তির দিনে গ্রাম বাংলার ঘরে ঘরে এককালে শাকান্ন পালিত হতো। এদিন সকাল বেলাতেই বাড়ির চারপাশের জলা, জংলা, ঝোপঝাড় থেকে শাক তুলে আনতো বাড়ির বউ-ঝিরা। চৌদ্দ পদের এই শাক রান্না এখনো অনেক গ্রামে হয়।

বাংলাদেশে চরক পূজা কোথায় কোথায় হয়?

বাংলাদেশে চরক পূজা কোথায় দেখা যায়? এই তথ্য অনেকেরই জানার ইচ্ছা থাকে।

বরিশালের নল চিড়াতে চৈত্র সংক্রান্তির দিন থেকে সপ্তাহখানেক ধরে বিভিন্ন জায়গায় মেলা বসার কথা পাওয়া যায়।

বাংলাদেশে চরক পূজার প্রধান কেন্দ্রগুলো হলো:

  • ঢাকা বিভাগ: নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর অঞ্চল
  • বরিশাল বিভাগ: বরিশাল সদর, ঝালকাঠি, পিরোজপুর
  • চট্টগ্রাম বিভাগ: বিভিন্ন গ্রামীণ মন্দির প্রাঙ্গণে
  • রাজশাহী বিভাগ: চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ
  • সিলেট বিভাগ: হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান মন্দিরগুলোতে
  • খুলনা বিভাগ: যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট

প্রতিটি জায়গায় উৎসবের স্থানীয় রঙ ও ঐতিহ্য একটু আলাদা এটাই চরক পূজার সবচেয়ে সুন্দর দিক।

নীল পূজা কী এবং এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

চরক পূজার ঠিক আগের দিন নীল পূজা পালিত হয়। ২০২৬ সালে নীল পূজা হবে ১২ই এপ্রিল (রবিবার)।

এ পূজার বিশেষ অঙ্গের নাম নীলপূজা।

সমুদ্রমন্থনকালে উত্থিত বিষ কণ্ঠে ধারণ করে শিব নীলকণ্ঠ, তাই নীল পূজা। মায়েরা নীলের উপোস করে সন্তানের মঙ্গল কামনায়।

নীল পূজার বিশেষ বৈশিষ্ট্য:

  • মায়েরা সন্তানের মঙ্গলের জন্য উপবাস করেন
  • শিবের নীলকণ্ঠ রূপের আরাধনা করা হয়
  • সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বেলে প্রার্থনা করা হয়
  • নীল রঙের ফুল দিয়ে শিবকে সাজানো হয়

চরক পূজার ধর্মীয় ও সামাজিক তাৎপর্য

শুধু আচার-অনুষ্ঠান নয়, এই পূজার পেছনে রয়েছে গভীর সামাজিক অর্থ।

এক সময় এ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি উৎসব হতো চৈত্র সংক্রান্তিতে।

গম, ছোলা, যব, অড়হর প্রভৃতি রবিশস্য পেকে উঠেছে দীর্ঘ কালের অনাহারে শীর্ণদেহ, ক্ষুধাতুর কৃষক পরিবারে যে হর্ষের উচ্ছ্বাস দেখিতে পাওয়া যায়, তাহা সুদীর্ঘ হিমযামিনীর অবসানে বসন্তের মলয়ানিলের মতই সুখাবহ।

অর্থাৎ, চরক পূজা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয় এটি ছিল কৃষক জীবনের ফসল ঘরে তোলার আনন্দ উদযাপন।

চরক পূজার বহুমাত্রিক গুরুত্ব:

  • ধর্মীয়: শিবের প্রতি গভীর ভক্তি ও কৃতজ্ঞতা
  • সামাজিক: সমাজের সব শ্রেণির মানুষের মিলনস্থল
  • সাংস্কৃতিক: বাঙালি লোক-সংস্কৃতির অমূল্য ধারা
  • অর্থনৈতিক: মেলাকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়া
  • মনস্তাত্ত্বিক: বছরের শেষে সব কষ্ট ভুলে নতুন শুরুর উদযাপন

চরক পূজার মেলা

নীলষষ্ঠীর পরের দিনই হয় চড়ক উৎসব। তাই অনেকেই একে শিবের গাজনের অঙ্গ হিসেবেই বিবেচনা করেন।

চরক পূজার মেলায় কী কী পাওয়া যায়:

  • মাটির তৈরি খেলনা ও প্রতিমা
  • বাঁশ ও বেতের হস্তশিল্প
  • গ্রামীণ খাবার — মুড়ি, মোয়া, বাতাসা, জিলাপি
  • যাত্রাপালা ও কবিগান
  • নাগরদোলা ও সার্কাস
  • নানা রকম ফুল ও পূজার উপকরণ

এই মেলায় শুধু হিন্দু নয়, সব ধর্মের মানুষ আসেন। চরক পূজার মেলা তাই বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক।

মানুষ যা জানতে চায়

প্রশ্ন ১: চরক পূজা কি শুধু হিন্দুদের উৎসব?

মূলত চরক পূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব হলেও, চৈত্র সংক্রান্তি হচ্ছে বাঙালির আরেক বড় অসাম্প্রদায়িক উৎসব। মেলায় সব ধর্মের মানুষ অংশ নেন এবং বাংলার লোকসংস্কৃতির অংশ হিসেবে সবাই একে উপভোগ করেন।

প্রশ্ন ২: চরক গাছ কী?

চরক গাছ হলো একটি বিশাল কাঠের খুঁটি বা দণ্ড, যেটিকে মাটিতে পুঁতে উপরে একটি আড়াআড়ি কাঠ বেঁধে দেওয়া হয়। সেই আড়াআড়ি কাঠের সঙ্গে দড়ি ঝুলিয়ে সন্ন্যাসীরা বড়শির সাহায্যে শূন্যে ঘোরেন। এটি শিবের চরক বা চাকাকে প্রতীকিভাবে উপস্থাপন করে।

প্রশ্ন ৩: ২০২৬ সালে নীল পূজা কত তারিখে?

২০২৬ সালে নীল পূজা পালিত হবে ১২ই এপ্রিল (রবিবার), অর্থাৎ ২৯শে চৈত্র ১৪৩২। এটি চরক পূজার ঠিক একদিন আগে, চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিন।

প্রশ্ন ৪: চরক পূজা ও গাজন পূজা কি একই?

না, তবে এরা ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। গম্ভীরাপূজা বা শিবের গাজন এই চড়কপূজারই রকমফের। গাজন পূজা হলো শিবের আরাধনার ব্যাপক উৎসব, আর চরক পূজা তার অন্যতম প্রধান অঙ্গ — যেখানে চরক গাছে দোলা দেওয়া হয়।

প্রশ্ন ৫: চরক পূজা কি বাংলাদেশে সরকারি ছুটির দিন?

চরক পূজা সরাসরি সরকারি ছুটির তালিকায় নেই। তবে চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখ (১৪ই এপ্রিল) সরকারি ছুটির দিন। তাই ১৩-১৪ এপ্রিলে দুই দিন পরিবারের সাথে উৎসব উপভোগ করা যাবে।

প্রশ্ন ৬: চরক পূজার আগে কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন?

যদি কোনো মেলা বা উৎসবে যেতে চান:

  • স্থানীয় মন্দির কমিটি বা পুরোহিতের কাছ থেকে সঠিক সময়সূচি জানুন
  • সকাল থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা করুন
  • শিশুদের নিয়ে গেলে ভিড়ের কথা মাথায় রাখুন
  • স্থানীয় মেলার সময় ও স্থান আগে থেকে জেনে নিন

শেষকথা

চরক পূজা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়। এটি হাজার বছরের বাঙালি সভ্যতার জীবন্ত দলিল।

যখন একজন সন্ন্যাসী পিঠে বড়শি গেঁথে শূন্যে ঘোরেন সেটা কেবল কষ্ট সহ্য করা নয়। সেটা হলো অসীম বিশ্বাসের প্রকাশ, ভক্তির চূড়ান্ত নিবেদন।

এই চৈত্র সংক্রান্তিতে যদি সুযোগ হয়, কাছের কোনো চরক পূজার মেলায় একবার যান। চোখের সামনে দেখুন বাংলার এই অসাধারণ লোকসংস্কৃতিকে।

📌 তথ্যসূত্র: বাংলা পঞ্জিকা ১৪৩২, উইকিপিডিয়া (চড়ক পূজা), প্রথম আলো, The Daily Star Bangla এবং ঐতিহ্যবাহী বাংলা পুরাণ।

আপনার কাছের মানুষদের জানিয়ে দিন — ২০২৬ সালে চরক পূজা কবে! এই পোস্টটি শেয়ার করুন এবং বাংলার এই অনন্য লোকসংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখুন। 🙏

Leave a Comment