কোরবানির ফজিলত সম্পর্কে একাধিক সহিহ হাদিস বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “কোরবানির দিন রক্ত প্রবাহিত করার চেয়ে আল্লাহর কাছে প্রিয় কোনো আমল নেই।” (তিরমিজি: ১৪৯৩)। অন্য হাদিসে বলা হয়েছে, কোরবানির পশুর প্রতিটি পশমের বিনিময়ে একটি করে নেকি দেওয়া হয় (মুসনাদে আহমাদ: ১৯২৮৩)। সামর্থ্যবানের জন্য কোরবানি করা ওয়াজিব — এটি হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নত এবং ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিয়ার বা নিদর্শন।
কোরবানি কী এবং এর মূল পরিচয়
কোরবানি শব্দটি আরবি “কুরবান” থেকে এসেছে, যার অর্থ নৈকট্য বা উৎসর্গ। ইসলামি পরিভাষায়, পবিত্র ঈদুল আজহার উপলক্ষে জিলহজ মাসের ১০ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নির্দিষ্ট পশু জবেহ করাই কোরবানি।
এই ইবাদতের ইতিহাস অত্যন্ত পুরনো। হজরত ইবরাহিম (আ.) আল্লাহর আদেশে তাঁর প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-কে উৎসর্গ করতে সম্মত হয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর আনুগত্য দেখে পুত্রের পরিবর্তে একটি পশু পাঠান। সেই স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় রাখতেই মুসলিম উম্মাহ প্রতি বছর কোরবানি করে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় হিজরতের পর প্রতিটি বছর কোরবানি করেছেন এবং কখনো ছেড়ে দেননি।
কোরবানির ফজিলত সম্পর্কে সহিহ হাদিস
হাদিস ১ — কোরবানি সর্বোত্তম আমল
হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“কোরবানির দিনে বান্দার কোনো আমলই আল্লাহর কাছে রক্ত প্রবাহিত করার চেয়ে বেশি প্রিয় নয়। কোরবানির পশু কিয়ামতের দিন তার শিং, পশম ও ক্ষুর নিয়ে উপস্থিত হবে। কোরবানির রক্ত জমিনে পড়ার আগেই আল্লাহর কাছে তা কবুল হয়ে যায়। সুতরাং তোমরা প্রফুল্ল মনে কোরবানি করো।”
— (তিরমিজি: ১৪৯৩; ইবনে মাজাহ: ৩১২৬)
হাদিস ২ — প্রতিটি পশমে নেকি
হজরত যায়েদ ইবনে আকরাম (রা.) থেকে বর্ণিত, সাহাবায়ে কেরাম রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, কোরবানি কী এবং এতে কী সওয়াব পাওয়া যায়? নবীজি (সা.) উত্তর দিলেন:
“এটি তোমাদের পিতা হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নত। কোরবানির পশুর প্রতিটি পশমের বিনিময়ে একটি নেকি পাওয়া যায়। ভেড়ার পশম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ভেড়ার প্রতিটি পশমের বিনিময়েও একটি নেকি রয়েছে।”
— (মুসনাদে আহমাদ: ১৯২৮৩; ইবনে মাজাহ: ৩১২৭)
হাদিস ৩ — কোরবানি না করলে কঠোর সতর্কতা
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“যার সামর্থ্য আছে অথচ কোরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।”
— (ইবনে মাজাহ: ৩১২৩; মুস্তাদরাকে হাকিম)
হাদিস ৪ — নামাজের পর কোরবানি করার বিধান
হজরত বারা ইবনে আযিব (রা.) বর্ণিত:
“নবী (সা.) বলেছেন: যে ব্যক্তি ঈদের নামাজের পর যবেহ করল, তার কোরবানি পূর্ণ হলো এবং সে মুসলমানদের সুন্নত পালন করল।”
— (সহিহ বুখারি: ৫৫৪৬; সহিহ মুসলিম: ১৯৬১)
হাদিস ৫ — নবীজির নিজের কোরবানির পদ্ধতি
হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) দুটি শিংওয়ালা, সাদা-কালো রঙের দুম্বা নিয়ে আসতে বললেন এবং বিসমিল্লাহ বলে যবেহ করলেন। তখন দোয়া করলেন:
“হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদের, তাঁর পরিবারের এবং তাঁর উম্মতের পক্ষ থেকে কবুল করে নিন।”
— (সহিহ মুসলিম: ১৯৬৭; আবু দাউদ: ২৭৯০)
এই হাদিস থেকে প্রমাণিত হয় যে অন্যের পক্ষ থেকেও কোরবানি করা জায়েজ — এমনকি মৃত মুসলমানের পক্ষ থেকেও।
হাদিস ৬ — কোরবানির গোশত সংরক্ষণ প্রসঙ্গে
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন:
“তোমরা (কোরবানির গোশত) নিজেরা খাও, অন্যকে খাওয়াও এবং সংরক্ষণ করো।”
— (সহিহ বুখারি: ৫৫৬৯; সহিহ মুসলিম: ২/১৫৮)
কোরবানির ফজিলত কুরআনের আলোকে
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেছেন:
“আপনার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি করুন।” (সূরা কাওসার: ২)
“আল্লাহর কাছে কোরবানির পশুর গোশত বা রক্ত কিছুই পৌঁছায় না, তবে তাঁর কাছে তোমাদের তাকওয়া পৌঁছায়।” (সূরা হজ: ৩৭)
এই আয়াত থেকে স্পষ্ট — কোরবানির মূল কথা হলো আল্লাহভীতি ও আন্তরিকতা, শুধু পশু জবেহ করা নয়।
কার উপর কোরবানি ওয়াজিব?
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে — আমার উপর কি কোরবানি ফরজ বা ওয়াজিব?
ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, নিচের শর্তগুলো পূরণ হলে কোরবানি ওয়াজিব হয়:
- মুসলিম হওয়া — কাফির বা মুশরিকের কোরবানি গৃহীত হয় না।
- প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন হওয়া
- মুকিম হওয়া — মুসাফিরের উপর ওয়াজিব নয়।
- নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া — অর্থাৎ সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা বা এর সমমূল্যের সম্পদ প্রয়োজনের অতিরিক্ত থাকলে। (হেদায়া; শরহে বেকায়া)
- নিসাব কোরবানির দিনগুলোতে (১০-১২ জিলহজ) অর্জিত হলেই যথেষ্ট — বছর পূর্ণ হওয়া শর্ত নয়।
দ্রষ্টব্য: সামর্থ্যবান ব্যক্তি হাতে নগদ না থাকলেও ধার করে কোরবানি আদায় করা উচিত।
কোরবানির সময় — কখন করতে হবে?
- শুরু: ১০ জিলহজ ঈদের নামাজের পর থেকে
- শেষ: ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগে পর্যন্ত (হানাফি মত)
- উত্তম সময়: ১০ জিলহজ ঈদের নামাজের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব
ইমাম শাফেঈ (রহ.)-এর মতে কোরবানি ১৩ জিলহজ পর্যন্ত করা যায়, তবে বাংলাদেশে হানাফি মাজহাব অনুসরণ করা হয়, সেই অনুযায়ী ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত।
কোরবানির পশু — কোন পশু, কত বয়সে?
সহিহ হাদিস ও ফিকহের আলোকে নিচের পশুগুলো দিয়ে কোরবানি করা যায়:
| পশু | ন্যূনতম বয়স | ভাগের সংখ্যা |
|---|---|---|
| উট | ৫ বছর | সর্বোচ্চ ৭ জন |
| গরু / মহিষ | ২ বছর | সর্বোচ্চ ৭ জন |
| ছাগল | ১ বছর | ১ জন |
| ভেড়া / দুম্বা | ১ বছর (ব্যতিক্রম: ৬ মাস, যদি দেখতে ১ বছরের মতো হয়) | ১ জন |
(সূত্র: সহিহ মুসলিম: ১৩৮; মুয়াত্তা মালেক: ৭৫৪; বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২০৫-২০৭)
গুরুত্বপূর্ণ: ছাগলের বয়স ১ বছরের কম হলে কোনো অবস্থাতেই কোরবানি শুদ্ধ হবে না।
কোরবানির পশুতে কী ধরনের দোষ থাকলে কোরবানি হবে না?
রাসুলুল্লাহ (সা.) চারটি দোষযুক্ত পশু দিয়ে কোরবানি করতে নিষেধ করেছেন:
১. স্পষ্টভাবে কানা — এক চোখ বা দুই চোখই অকার্যকর
২. স্পষ্ট রোগাক্রান্ত — চুলকানি, পাঁচড়া বা অন্য রোগে আক্রান্ত
৩. স্পষ্টভাবে খোঁড়া — যে পশু হেঁটে চলতে পারে না
৪. অত্যন্ত দুর্বল — যার হাড়ে মজ্জা নেই
(সূত্র: মুয়াত্তা মালেক — বারা ইবনে আযিব (রা.) বর্ণিত)
ভাগে কোরবানির নিয়ম — বাংলাদেশে যা জানা জরুরি
বাংলাদেশে গরু-মহিষের কোরবানি সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। ভাগে কোরবানির ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে:
- প্রতিটি অংশীদারের অংশ সমান হতে হবে — কারো আধা ভাগ, কারো দেড় ভাগ হলে কোরবানি শুদ্ধ হবে না।
- প্রতিটি অংশীদারের নিয়ত সহিহ হতে হবে। শুধু গোশত খাওয়ার নিয়তে কোরবানিতে অংশ নিলে সেটি বৈধ হবে না।
- গোশত অনুমান করে নয়, পাল্লায় মেপে বণ্টন করা উত্তম।
(সূত্র: বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২০৭)
কোরবানির গোশত বণ্টনের নিয়ম
ফিকহবিদরা তিন ভাগ করাকে মুস্তাহাব বলেছেন:
- এক ভাগ: নিজের পরিবারের জন্য
- এক ভাগ: আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের জন্য
- এক ভাগ: গরিব-মিসকিন ও প্রতিবেশীদের জন্য
তবে বেশি দান করলে আরও বেশি সওয়াব। প্রয়োজনে পুরোটা রেখে দিলেও ক্ষতি নেই। কোরবানির গোশত বিক্রি করা হারাম।
কোরবানির মূল শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য
অনেকে কোরবানিকে শুধু পশু জবেহ করার অনুষ্ঠান মনে করেন। কিন্তু ইসলামে এর গভীর আধ্যাত্মিক মানে রয়েছে:
- আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য — হজরত ইবরাহিম (আ.) যেভাবে পুত্রকে উৎসর্গ করতে রাজি হয়েছিলেন।
- আত্মত্যাগের মনোভাব — নিজের প্রিয় বস্তুকে আল্লাহর জন্য ছেড়ে দেওয়া।
- সামাজিক সমতা — ধনী-গরিব সবাই একসাথে গোশত ভোগ করে।
- শিরক থেকে মুক্তি — কোরবানি হতে হবে একমাত্র আল্লাহর নামে, অন্য কারো নামে নয়।
কোরবানির সময় প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা
বাংলাদেশে কোরবানির সময় কিছু অসত্য ধারণা প্রচলিত আছে, যা থেকে সাবধান থাকা জরুরি:
❌ পশুর শিং ঘরে ঝুলালে চোর-ডাকাত আসে না — কোরআন, হাদিস বা বিজ্ঞানে এর কোনো ভিত্তি নেই।
❌ কোরবানির রক্ত পায়ে লাগালে ফাঙ্গাস সারে — এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অবৈজ্ঞানিক।
❌ ঈদের নামাজের আগে জবেহ করলে কোরবানি হয় — হাদিসে স্পষ্ট, নামাজের আগে জবেহ করলে তা কোরবানি নয়, সাধারণ গোশত।
✅ সঠিক পথ: সহিহ হাদিস ও বিশ্বস্ত আলেমদের পরামর্শ মেনে কোরবানি করুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
প্রশ্ন ১: কোরবানি কি ফরজ নাকি ওয়াজিব?
হানাফি মাজহাব অনুযায়ী সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য কোরবানি ওয়াজিব। ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালেক, ইমাম জুফার (রহ.)-সহ অনেক ইমামের এটি মত। শাফেঈ মাজহাবে এটি সুন্নতে মুআক্কাদা। বাংলাদেশে হানাফি মত অনুসরণ করা হয়।
প্রশ্ন ২: কোরবানির পশুর প্রতিটি পশমে নেকি হয় — এটা কি সহিহ হাদিস?
হ্যাঁ, এটি মুসনাদে আহমাদ (হাদিস: ১৯২৮৩) ও ইবনে মাজাহতে (হাদিস: ৩১২৭) বর্ণিত। তবে হাদিসটির সনদ নিয়ে কিছু মুহাদ্দিস আলোচনা করেছেন। ইমাম তিরমিজি ও ইমাম হাকিম হাদিসটিকে হাসান বা সহিহ বলেছেন।
প্রশ্ন ৩: মৃত মানুষের পক্ষ থেকে কি কোরবানি দেওয়া যায়?
হ্যাঁ, যায়। নবীজি (সা.) নিজে তাঁর উম্মতের মধ্যে যারা কোরবানি করতে পারেনি তাদের পক্ষ থেকেও কোরবানি করেছেন (আবু দাউদ: ২৭৯০)। তাই মৃত মাতাপিতা বা অন্য প্রিয়জনের পক্ষ থেকে কোরবানি করা জায়েজ ও সওয়াবের কাজ।
প্রশ্ন ৪: কোরবানির গোশত ফ্রিজে রেখে কতদিন খাওয়া যাবে?
সহিহ মুসলিমের হাদিস অনুযায়ী, শুরুতে তিন দিন পর গোশত রাখা নিষেধ ছিল। পরে নবীজি (সা.) অনুমতি দেন এবং বলেন: “খাও, সংরক্ষণ করো এবং সদকা করো।” (সহিহ মুসলিম: ২/১৫৮) তাই এখন যতদিন ইচ্ছা সংরক্ষণ করা যাবে।
প্রশ্ন ৫: কোরবানির চামড়া কি বিক্রি করা যায়?
হ্যাঁ, তবে বিক্রির টাকা নিজে ব্যবহার করা যাবে না — সম্পূর্ণ গরিব ও দ্বীনি কাজে দান করতে হবে। কসাইকে মজুরি হিসেবে কোরবানির গোশত বা চামড়া দেওয়া যাবে না।
প্রশ্ন ৬: কোরবানির পশু কেনার সময় কী দেখতে হবে?
- পশুর বয়স যাচাই করুন (গরুর ক্ষেত্রে ২ বছর)
- দাঁত দেখুন — দুটি নতুন দাঁত সাধারণত ২ বছর পূর্ণের আলামত
- কানা, খোঁড়া বা অসুস্থ পশু নয়
- লেজ বা কানের বেশিরভাগ কাটা নয়
প্রশ্ন ৭: কোরবানি দিতে না পারলে কী করবেন?
সামর্থ্যবান ব্যক্তি যদি কোনো কারণে কোরবানির দিনগুলো পার হওয়ার পরও কোরবানি করতে না পারেন, তাহলে একটি বকরির সমমূল্য সদকা করা ওয়াজিব।
কোরবানির দোয়া ও জবেহের নিয়ম
জবেহ করার সময় বলবেন:
بِسْمِ اللهِ، اللهُ أَكْبَرُ، اَللّهُمَّ تَقَبَّلْ مِنِّي
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা তাকাব্বাল মিন্নি।
অর্থ: আল্লাহর নামে, আল্লাহ মহান। হে আল্লাহ, আমার পক্ষ থেকে কবুল করুন।
অন্যের পক্ষ থেকে কোরবানি হলে বলবেন: اَللّهُمَّ تَقَبَّلْ مِنْ (নাম)
শেষকথা
কোরবানি শুধু একটি পশু জবেহ করার আনুষ্ঠানিকতা নয় — এটি আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, আনুগত্য ও আত্মত্যাগের সর্বোচ্চ প্রকাশ। সহিহ হাদিসগুলো স্পষ্টভাবে কোরবানির অসামান্য ফজিলত তুলে ধরে। প্রতিটি পশমে নেকি, কিয়ামতের দিন পশুর সাক্ষী হওয়া এবং রক্ত ঝরার সাথে সাথে পাপ মাফ হওয়া — এই সুসংবাদগুলো কোরবানিকে ঈদুল আজহার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত করে তোলে।
বাংলাদেশের প্রতিটি সামর্থ্যবান মুসলমানের উচিত সহিহ নিয়মে কোরবানি আদায় করা, ভুল ধারণা থেকে দূরে থাকা এবং কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা।
তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স
- সহিহ বুখারি (হাদিস: ৫৫৪৫, ৫৫৪৬, ৫৫৬৯)
- সহিহ মুসলিম (হাদিস: ১৯৬১, ১৯৬৭)
- তিরমিজি (হাদিস: ১৪৯৩)
- ইবনে মাজাহ (হাদিস: ৩১২৩, ৩১২৬, ৩১২৭)
- মুসনাদে আহমাদ (হাদিস: ১৯২৮৩)
- আবু দাউদ (হাদিস: ২৭৯০)
- মুয়াত্তা মালেক (হাদিস: ৭৫৪)
- বাদায়েউস সানায়ে (ইমাম কাসানি রচিত হানাফি ফিকহগ্রন্থ): ৪/২০৫-২০৯
- হেদায়া ও শরহে বেকায়া (প্রামাণিক হানাফি ফিকহগ্রন্থ)
- iHadis.com ও HadithBD.com — অনলাইন হাদিস যাচাই প্ল্যাটফর্ম
এই আর্টিকেলটি সহিহ হাদিসগ্রন্থ এবং বিশ্বস্ত ইসলামি ফিকহ উৎস থেকে যাচাই করে লেখা হয়েছে। যেকোনো ধর্মীয় বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আপনার নিকটস্থ বিশ্বস্ত আলেমের পরামর্শ নিন।
আমি মারুফ, গত ৫ বছর ধরে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্র্যান্ডিং এবং কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করছি। বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে আমি দেখেছি কিভাবে একটি ছোট স্লোগান একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে।