সমিতির কমিটি গঠনের নিয়ম

সমিতির কমিটি গঠনের জন্য বাংলাদেশের সমবায় সমিতি আইন ২০০১-এর ধারা ১৮ অনুযায়ী কমপক্ষে ৬ জন এবং সর্বোচ্চ ১২ জন সদস্য নিয়ে একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি (Management Committee) গঠন করতে হয়। কমিটি সাধারণ সভায় নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হয়। প্রথম কমিটির মেয়াদ ২ বছর এবং পরবর্তী নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ ৩ বছর।

সমিতির কমিটি কী এবং কেন দরকার?

বাংলাদেশের গ্রাম থেকে শহর — সর্বত্রই সমিতি বা সমবায় সমিতির প্রচলন রয়েছে। কিন্তু একটি সমিতিকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য একটি নির্ধারিত কমিটি বা পরিচালনা পর্ষদ থাকা অপরিহার্য। এই কমিটিই সমিতির সকল সিদ্ধান্ত নেয়, আর্থিক লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করে এবং সদস্যদের স্বার্থ রক্ষা করে।

সমবায় সমিতি আইন ২০০১-এর ধারা ১৮ অনুযায়ী, প্রত্যেক সমবায় সমিতির যাবতীয় ক্ষমতা এবং ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব একটি নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটির উপর ন্যস্ত থাকে। সাধারণ সভায় সম্পাদনযোগ্য কার্য ছাড়া সমিতির সকল কার্য এই কমিটি পরিচালনা করে।

📌 কমিটি কেন জরুরি?

  • সমিতির সম্পদ ও আর্থিক লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করতে
  • সদস্যদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে
  • সভা পরিচালনা এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য
  • সরকারি নিবন্ধন ও আইনি বৈধতার জন্য
  • সমিতির উদ্দেশ্য পূরণ ও কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য

আইনি ভিত্তি: কোন আইনে কমিটি গঠনের কথা আছে?

বাংলাদেশে সমিতির কমিটি গঠন মূলত দুটি প্রধান আইন ও বিধিমালা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়:

আইন/বিধিমালাবিষয়মূল ধারা
সমবায় সমিতি আইন, ২০০১সমিতি গঠন, নিবন্ধন, কমিটি, মেয়াদধারা ৮, ১৮, ১৯, ২০
সমবায় বিধিমালা, ২০০৪নির্বাচন পদ্ধতি, কমিটির বিস্তারিত নিয়মবিধি ২৩
সমবায় সমিতি (সংশোধন) আইন, ২০১৩কমিটির মেয়াদ ও অন্তর্বর্তী কমিটি সংক্রান্ত পরিবর্তনধারা ১২
সমবায় সমিতি (সংশোধিত) বিধিমালা, ২০২০সর্বশেষ সংশোধন ও আধুনিকায়নসমগ্র বিধিমালা

এছাড়াও সামাজিক বা পেশাদার সমিতির ক্ষেত্রে সমিতির নিজস্ব গঠনতন্ত্র বা সংবিধান (Constitution) কমিটি গঠনের নিয়ম নির্ধারণ করে। তবে এই গঠনতন্ত্র অবশ্যই প্রচলিত আইনের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়া চলবে না।

সমিতি গঠনে ন্যূনতম সদস্য সংখ্যা

সমবায় সমিতি আইন ২০০১-এর ধারা ৮ অনুযায়ী, সমিতির ধরন ভেদে ন্যূনতম সদস্য সংখ্যার বিধান আলাদা:

সমিতির ধরনন্যূনতম সদস্যবিশেষ শর্ত
প্রাথমিক সমবায় সমিতি২০ জন ব্যক্তিপ্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী
কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতিকমপক্ষে ১০টি প্রাথমিক সমবায় সমিতিএকই ধরনের সমিতি হতে হবে
জাতীয় সমবায় সমিতিকমপক্ষে ১০টি কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি
সামাজিক/পেশাদার সমিতিগঠনতন্ত্র অনুযায়ী (সাধারণত ৭–২০ জন)গঠনতন্ত্র নিজেরাই নির্ধারণ করে

💡 জানা দরকার

আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ সদস্য সংখ্যার কোনো সীমা নির্ধারিত নেই। সদস্যরা অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক, প্রাপ্তবয়স্ক (১৮ বছর বা তার ঊর্ধ্বে) এবং মানসিকভাবে সুস্থ হতে হবে।

কমিটির পদসমূহ ও সংখ্যা

সমবায় সমিতি আইন ২০০১ ও বিধিমালা ২০০৪-এর ধারা ২৩ অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা কমিটিতে কমপক্ষে ৬ জন এবং সর্বোচ্চ ১২ জন সদস্য থাকবেন। তবে সামাজিক ও পেশাদার সমিতিগুলোতে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পদের সংখ্যা ভিন্ন হতে পারে।

সমবায় সমিতির ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ পদসমূহ:

সভাপতি / চেয়ারম্যান

১ জন

সহ-সভাপতি

১ জন

সাধারণ সম্পাদক

১ জন

যুগ্ম সম্পাদক

১–২ জন

অর্থ সম্পাদক

১ জন

সাংগঠনিক সম্পাদক

১ জন

দপ্তর সম্পাদক

১ জন

কার্যকরী সদস্য

২–৩ জন

সামাজিক/কল্যাণ সমিতির বিস্তারিত কমিটি পদসমূহ:

সামাজিক সংগঠনের কমিটিতে সাধারণত আরও কিছু বিশেষ পদ থাকে, যেমন:

  • শিক্ষা, সাহিত্য ও গবেষণা সম্পাদক
  • তথ্য, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক
  • ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক
  • ধর্ম ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক
  • মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক
  • স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক

ধাপে ধাপে কমিটি গঠনের পদ্ধতি

সমিতির কমিটি গঠন একটি নির্দিষ্ট ক্রমানুসারে করতে হয়। নিচে ধাপগুলো সহজে বোঝার মতো করে দেওয়া হলো:

  • উদ্যোক্তাদের একত্রিত হওয়াএকই এলাকার সমমনা, সমপেশা বা সমস্বার্থবিশিষ্ট কমপক্ষে ২০ জন (প্রাথমিক সমবায়ের ক্ষেত্রে) প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি একত্রিত হয়ে সমিতি গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
  • প্রাথমিক বা উদ্যোক্তা কমিটি গঠনউদ্যোক্তারা নিজেদের মধ্য থেকে কমপক্ষে ৬ সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রাথমিক ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করেন। এই কমিটিতে সভাপতি, সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ থাকেন।
  • খসড়া উপবিধি বা গঠনতন্ত্র প্রস্তুতপ্রাথমিক কমিটির প্রথম কাজ হলো সমিতির নাম, ঠিকানা, উদ্দেশ্য, সদস্যপদের নিয়ম, শেয়ারের পরিমাণ, কমিটির গঠন ইত্যাদি সম্বলিত একটি খসড়া উপবিধি (By-laws) বা গঠনতন্ত্র তৈরি করা। সমবায় বিভাগ থেকে ছাপানো উপবিধিও সংগ্রহ করা যায়।
  • প্রতিষ্ঠাতা সভা আয়োজনসকল উদ্যোক্তা সদস্যকে নিয়ে একটি প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সভা আয়োজন করতে হয়। এই সভায় গঠনতন্ত্র পাঠ ও অনুমোদন করা হয় এবং কার্যকরী কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়।
  • কমিটির নির্বাচন ও ঘোষণাসাধারণ সভায় উপস্থিত সদস্যদের ভোটে বা সর্বসম্মতিক্রমে কমিটির প্রতিটি পদে নির্বাচন সম্পন্ন হয়। নির্বাচনের ফলাফল সভার কার্যবিবরণীতে লিপিবদ্ধ করতে হয়।
  • নিবন্ধনের আবেদনগঠিত কমিটি সমবায় নিবন্ধকের অফিস থেকে নিবন্ধন ফরম সংগ্রহ করে যথাযথভাবে পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি সহ জমা দেয়। অনলাইনেও (coop.gov.bd) আবেদন করা যায়।
  • নিবন্ধক কর্তৃক অনুমোদন ও প্রথম কমিটির স্বীকৃতিনিবন্ধক আবেদনপত্র ও কাগজপত্র যাচাই করে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন সনদ ইস্যু করেন এবং প্রথম ব্যবস্থাপনা কমিটিকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেন।

কমিটির মেয়াদ ও নির্বাচন পদ্ধতি

সমিতির কমিটির মেয়াদ নিয়ে প্রায়ই বিভ্রান্তি দেখা যায়। সমবায় সমিতি আইন ২০০১ ও ২০১৩ সালের সংশোধনী অনুযায়ী:

কমিটির ধরনমেয়াদবিশেষ নিয়ম
প্রথম (প্রাথমিক) ব্যবস্থাপনা কমিটি২ বছরনিবন্ধনকালে নিবন্ধক কর্তৃক অনুমোদিত
নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটি৩ বছরপ্রথম সভার তারিখ থেকে গণনা শুরু
অন্তর্বর্তী কমিটি১২০ দিননির্বাচন সম্পন্ন না হলে নিবন্ধক নিয়োগ দেন

⚠️ গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

মেয়াদের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন না হলে কমিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায়। বিলুপ্তকৃত কমিটির কোনো সদস্য অন্তর্বর্তী কমিটিতে নিয়োগ পাওয়ার যোগ্য নন। এছাড়া একটানা তিনটি মেয়াদ পূর্ণ করলে পরবর্তী মেয়াদে প্রার্থী হওয়া যাবে না।

নির্বাচন পদ্ধতি কীভাবে কাজ করে?

  • সাধারণ সভায় উপস্থিত সদস্যরা সরাসরি ভোট দিয়ে কমিটির সদস্য নির্বাচন করেন
  • প্রতিটি সদস্যের ভোটাধিকার সমান — শেয়ারের পরিমাণ যাই হোক না কেন
  • নির্বাচিত কমিটির সদস্যরা নিজেদের মধ্য থেকে সভাপতি, সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ নির্বাচন করেন
  • সরকারি শেয়ারের ৫০%-এর বেশি থাকলে নিবন্ধক কমিটির এক-তৃতীয়াংশ সদস্য মনোনয়ন দিতে পারেন

কমিটির সদস্য হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা

যোগ্যতার শর্তসমূহ:

  • বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে
  • প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে (১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব)
  • মানসিকভাবে সুস্থ হতে হবে (কোনো আদালত মানসিক অসুস্থ ঘোষণা করেনি)
  • সমিতির সদস্য ও গঠনতন্ত্র মানতে সম্মত হতে হবে
  • চুক্তি সম্পাদনে আইনত সক্ষম হতে হবে

অযোগ্যতার কারণসমূহ:

  • ফৌজদারি মামলায় আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি
  • সমিতির বিধিমালার পরিপন্থী কাজ করেছেন এমন ব্যক্তি
  • একাদিক্রমে তিনটি মেয়াদ পূর্ণ করেছেন এমন সদস্য (পরবর্তী মেয়াদের জন্য)
  • বিলুপ্তকৃত কমিটির সদস্য (অন্তর্বর্তী কমিটির ক্ষেত্রে)
  • দেউলিয়া ঘোষিত ব্যক্তি

📌 সামাজিক সমিতির ক্ষেত্রে বিশেষ শর্ত

কিছু সংগঠন (যেমন সুজন বা সিভিল সোসাইটি সংগঠন) নিজেদের গঠনতন্ত্রে অতিরিক্ত শর্ত যোগ করে, যেমন: ঋণখেলাপি, কর খেলাপি, কালো টাকার মালিক বা সাম্প্রদায়িক মনোভাবের ব্যক্তি কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকতে পারবেন না।

সমিতি নিবন্ধন: কোথায় ও কীভাবে?

কমিটি গঠনের পরে সমিতিটিকে আইনগত স্বীকৃতি পেতে হলে অবশ্যই নিবন্ধন করতে হবে।

নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:

  • পূরণকৃত নিবন্ধন আবেদনপত্র (নির্ধারিত ফরম)
  • অনুমোদিত উপবিধি বা গঠনতন্ত্রের তিনটি কপি
  • প্রতিষ্ঠাতা সভার কার্যবিবরণী
  • সকল সদস্যের নাম, ঠিকানা ও পদবির তালিকা
  • কমিটির সদস্যদের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
  • নির্ধারিত নিবন্ধন ফি
  • সমিতির সীলমোহরের নমুনা

নিবন্ধন প্রক্রিয়া:

  • এলাকার সমবায় নিবন্ধক অফিস বা জেলা সমবায় কার্যালয়ে আবেদন করতে হয়
  • অনলাইনে আবেদন করা যায়: coop.gov.bd
  • আবেদনের পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে কোনো ত্রুটি থাকলে জানানো হয়
  • সব ঠিক থাকলে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন সনদ ইস্যু করা হয়
  • মুনাফার ১৫% সঞ্চিত তহবিলে এবং ৩% কল্যাণ তহবিলে রাখতে হয়

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

সমিতির কমিটিতে কতজন সদস্য থাকতে হয়?

সমবায় সমিতি আইন ২০০১ অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা কমিটিতে কমপক্ষে ৬ জন এবং সর্বোচ্চ ১২ জন সদস্য থাকতে হয়। সদস্য সংখ্যা সমিতির উপবিধিতে নির্ধারিত থাকে।

সমিতির কমিটির মেয়াদ কত বছর?

প্রথম ব্যবস্থাপনা কমিটির মেয়াদ ২ বছর। এরপর নির্বাচিত প্রতিটি কমিটির মেয়াদ ৩ বছর (প্রথম সভার তারিখ থেকে গণনা)।

সমিতির কমিটি কীভাবে নির্বাচিত হয়?

সমিতির সাধারণ সভায় উপস্থিত সকল সদস্যের সমান ভোটাধিকারের ভিত্তিতে ব্যবস্থাপনা কমিটি নির্বাচিত হয়। প্রতিটি সদস্যের একটি করে ভোট থাকে, শেয়ারের পরিমাণ যত বেশিই হোক না কেন।

সমিতি গঠন করতে কমপক্ষে কতজন লাগে?

প্রাথমিক সমবায় সমিতি গঠন করতে কমপক্ষে ২০ জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রয়োজন। তবে সামাজিক বা পেশাদার সমিতির ক্ষেত্রে গঠনতন্ত্রে উল্লেখিত সংখ্যক সদস্য হলেই চলে।

একই ব্যক্তি কতবার কমিটিতে থাকতে পারবেন?

সমবায় আইন ২০১৩ সালের সংশোধনী অনুযায়ী, একজন সদস্য একাদিক্রমে সর্বোচ্চ তিনটি মেয়াদ কমিটিতে থাকতে পারবেন। তিনটি মেয়াদ পূর্ণ হলে পরবর্তী একটি মেয়াদে প্রার্থী হতে পারবেন না।

সমিতির কমিটি না থাকলে কী হয়?

মেয়াদের মধ্যে নির্বাচন না হলে কমিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়। তখন নিবন্ধক ১২০ দিনের জন্য একটি অন্তর্বর্তী কমিটি নিয়োগ করেন, যে কমিটি নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নেয়।

সমিতির গঠনতন্ত্রে কী কী থাকতে হবে?

সমিতির নাম ও ঠিকানা, উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম, সদস্যপদের নিয়ম, শেয়ার মূলধনের পরিমাণ, কমিটির গঠন ও ক্ষমতা, সভা পরিচালনার নিয়ম, হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি এবং বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান উল্লেখ থাকতে হবে।

আরও কিছু প্রশ্নের উত্তর

প্রশ্ন: সমিতির কমিটি গঠনের জন্য কি অবশ্যই নিবন্ধন করতে হবে?

হ্যাঁ, যদি সমিতি আইনগত স্বীকৃতি পেতে চায় এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, সম্পদ ক্রয়-বিক্রয়, ঋণ গ্রহণ ইত্যাদি করতে চায়, তাহলে নিবন্ধন আবশ্যক। নিবন্ধনের পরেই সমিতি আইনগতভাবে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা লাভ করে।

অনানুষ্ঠানিক বা ছোট সঞ্চয় দলের ক্ষেত্রে নিবন্ধন ছাড়াও কার্যক্রম চালানো যায়, তবে আইনি সুরক্ষা পাওয়া যায় না।

প্রশ্ন: মসজিদ কমিটি বা মাদ্রাসা কমিটির ক্ষেত্রে কি আলাদা নিয়ম আছে?

মসজিদ পরিচালনা কমিটি ও মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটি সমবায় সমিতি আইনের আওতায় নয়। এগুলো সাধারণত স্থানীয় সম্প্রদায় বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হয়। মাদ্রাসা কমিটির ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধিমালা প্রযোজ্য।

প্রশ্ন: কমিটির কোনো সদস্য মাঝপথে পদত্যাগ করলে কী হবে?

যদি কোনো সদস্য পদত্যাগ করেন বা কোনো কারণে পদ শূন্য হয়, তাহলে সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী শূন্য পদ পূরণ করা হয়। সাধারণত কার্যকরী কমিটি কো-অপশনের (co-option) মাধ্যমে সাময়িকভাবে পদ পূরণ করে এবং পরবর্তী সাধারণ সভায় তা অনুমোদন করানো হয়।

প্রশ্ন: সমিতির কমিটি কি নারীদের জন্য বিশেষ কোটা রাখে?

সমবায় সমিতি আইনে সরাসরি নারী কোটার বাধ্যতামূলক বিধান নেই। তবে অনেক সমিতির গঠনতন্ত্রে নারী সদস্যদের জন্য নির্দিষ্ট আসন সংরক্ষিত রাখা হয়। মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক পদটি সাধারণত নারী সদস্যের জন্য নির্ধারিত থাকে।

প্রশ্ন: সমিতির কমিটি বাতিল হয় কখন?

নিম্নলিখিত কারণে কমিটি বাতিল বা বিলুপ্ত হতে পারে: মেয়াদে নির্বাচন না হওয়া, আইন বা গঠনতন্ত্রবিরোধী কার্যক্রম, দুর্নীতি বা আর্থিক অনিয়ম প্রমাণিত হওয়া, এবং নিবন্ধক কর্তৃক সরকারি আদেশে বাতিল।

প্রশ্ন: সমিতির সদস্যপদ বাতিল হওয়ার কারণ কী?

সাধারণত নিচের কারণে সদস্যপদ বাতিল হতে পারে: সদস্যপদ পাওয়ার পর ৬ মাস চাঁদা না দিলে, পরপর তিনটি সভায় বিনা কারণে অনুপস্থিত থাকলে, সমিতির বিধিমালার বিরুদ্ধে কাজ করলে, মানসিকভাবে অসুস্থ ঘোষিত হলে বা মারা গেলে।

📚 তথ্যসূত্র ও রেফারেন্স

  • সমবায় সমিতি আইন, ২০০১ (৪৭ নং আইন) — বাংলাদেশ আইন মন্ত্রণালয় (bdlaws.minlaw.gov.bd)
  • সমবায় সমিতি বিধিমালা, ২০০৪
  • সমবায় সমিতি (সংশোধন) আইন, ২০১৩
  • সমবায় সমিতি (সংশোধিত) বিধিমালা, ২০২০
  • সমবায় অধিদপ্তর, বাংলাদেশ সরকার (coop.gov.bd)
  • বিধি মন্ত্রণালয় ও সংসদীয় বিষয়ক বিভাগ, বাংলাদেশ

দ্রষ্টব্য: এই আর্টিকেলটি তথ্যমূলক উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। আইনি পরামর্শের প্রয়োজনে অভিজ্ঞ আইনজীবী বা স্থানীয় সমবায় অফিসের সাথে যোগাযোগ করুন। সর্বশেষ আপডেট: মে ২০২৫।

Leave a Comment