স্টুডেন্ট ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম ও সুবিধা

স্টুডেন্ট ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম:
বাংলাদেশে যেকোনো শিক্ষার্থী নিকটস্থ ব্যাংকে গিয়ে জন্ম নিবন্ধন সনদ / জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র (স্টুডেন্ট আইডি), পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং অভিভাবকের পরিচয়পত্র নিয়ে স্টুডেন্ট একাউন্ট খুলতে পারবেন। ১৮ বছরের নিচে হলে অভিভাবকের সম্মতি ও স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। সর্বনিম্ন ১০০–৫০০ টাকা প্রাথমিক জমায় একাউন্ট চালু করা যায়।

শিক্ষার্থীদের কেন ব্যাংক একাউন্ট দরকার?

আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশে একজন শিক্ষার্থীর কাছে ব্যাংক একাউন্ট থাকা এখন আর বিলাসিতা নয়, এটি প্রয়োজনীয়তা। বৃত্তির টাকা পাওয়া, পরিবার থেকে নিরাপদে অর্থ আনা, অনলাইনে পেমেন্ট করা — এই সব কাজে একটি স্টুডেন্ট ব্যাংক একাউন্ট অপরিহার্য।

বাংলাদেশের প্রায় সব বাণিজ্যিক ব্যাংক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধার স্টুডেন্ট একাউন্ট অফার করে। এই একাউন্টগুলোতে সার্ভিস চার্জ কম, ন্যূনতম ব্যালেন্সের শর্ত শিথিল এবং ডিজিটাল সুবিধা বেশি।

এই গাইডে আপনি জানবেন — কোন ব্যাংকে একাউন্ট খোলা সহজ, কী কাগজপত্র লাগে, ধাপে ধাপে একাউন্ট খোলার পদ্ধতি এবং স্টুডেন্ট একাউন্টের বিশেষ সুবিধাগুলো।

স্টুডেন্ট ব্যাংক একাউন্ট কী?

স্টুডেন্ট একাউন্ট হলো শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি একটি বিশেষ ধরনের সঞ্চয়ী হিসাব (Savings Account)। সাধারণ একাউন্টের তুলনায় এতে:

  • ন্যূনতম জমার পরিমাণ কম (মাত্র ১০০–৫০০ টাকায় খোলা যায়)
  • সার্ভিস চার্জ কম বা শূন্য
  • ডেবিট কার্ড বিনামূল্যে
  • মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সুবিধা
  • অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে পরিচালনার সুযোগ

বাংলাদেশে স্টুডেন্ট একাউন্ট খোলার সাধারণ যোগ্যতা

স্টুডেন্ট একাউন্ট খুলতে আপনাকে সাধারণত নিচের শর্তগুলো পূরণ করতে হবে:

  • বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে
  • কোনো স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত থাকতে হবে
  • ১৮ বছরের নিচে হলে — অভিভাবক একাউন্ট পরিচালক হিসেবে থাকবেন
  • ১৮ বছর বা তার বেশি হলে — নিজেই স্বাধীনভাবে একাউন্ট পরিচালনা করতে পারবেন
  • ব্যাংকের নির্ধারিত শর্তাবলি মানতে হবে

স্টুডেন্ট ব্যাংক একাউন্ট খুলতে কী কী কাগজপত্র লাগে?

বেশিরভাগ ব্যাংকে নিচের কাগজপত্রগুলো দিয়ে স্টুডেন্ট একাউন্ট খোলা যায়:

শিক্ষার্থীর নিজের কাগজপত্র:

  • জন্ম নিবন্ধন সনদের ফটোকপি (১৮ বছরের নিচে হলে)
  • জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি (১৮ বছর বা তার বেশি হলে)
  • স্টুডেন্ট আইডি কার্ডের ফটোকপি
  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সনদপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
  • সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি (২ কপি, সত্যায়িত)

অভিভাবকের কাগজপত্র (১৮ বছরের নিচে হলে):

  • অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্র / বৈধ পাসপোর্টের ফটোকপি
  • অভিভাবকের আয়ের উৎসের প্রমাণপত্র
  • অভিভাবকের পাসপোর্ট সাইজের ছবি

অন্যান্য:

  • ব্যাংকের একাউন্ট খোলার ফর্ম (ব্যাংক থেকে বা ওয়েবসাইট থেকে)
  • নমিনির তথ্য ও ছবি

টিপস: ব্যাংকভেদে কিছু কাগজপত্রের তালিকা আলাদা হতে পারে। একাউন্ট খোলার আগে নির্দিষ্ট ব্যাংকের শাখায় বা ওয়েবসাইটে যোগাযোগ করে নিন।

ধাপে ধাপে স্টুডেন্ট ব্যাংক একাউন্ট খোলার পদ্ধতি

স্টুডেন্ট একাউন্ট খুলতে নিচের ৬টি ধাপ অনুসরণ করুন:

ধাপ ১: ব্যাংক নির্বাচন করুন
আপনার বাড়ি বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি একটি ব্যাংক বেছে নিন। শাখার সংখ্যা, এটিএম সুবিধা এবং মোবাইল ব্যাংকিং দেখে সিদ্ধান্ত নিন।

ধাপ ২: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করুন
উপরের তালিকা অনুযায়ী সব কাগজপত্র ফটোকপি করে সত্যায়িত করুন।

ধাপ ৩: ব্যাংক শাখায় যান
নিকটস্থ শাখায় যান এবং ব্যাংক কর্মকর্তাকে স্টুডেন্ট একাউন্ট খুলতে চান বলুন।

ধাপ ৪: ফর্ম পূরণ করুন
একাউন্ট খোলার ফর্ম সাবধানে পূরণ করুন। তথ্যে ভুল থাকলে একাউন্ট খুলতে সমস্যা হতে পারে।

ধাপ ৫: কাগজপত্র জমা দিন ও স্বাক্ষর করুন
সব ডকুমেন্ট জমা দিন এবং ব্যাংক কর্মকর্তার নির্দেশে স্বাক্ষর ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিন।

ধাপ ৬: প্রাথমিক জমা দিন
ব্যাংকের নির্ধারিত ন্যূনতম পরিমাণ জমা দিলে সাধারণত ৩০ মিনিটের মধ্যে একাউন্ট চালু হয়ে যায়।

বাংলাদেশের প্রধান ব্যাংকগুলোতে স্টুডেন্ট একাউন্টের তথ্য

১. ডাচ-বাংলা ব্যাংক (DBBL) স্টুডেন্ট একাউন্ট

ডাচ-বাংলা ব্যাংকের স্টুডেন্ট একাউন্ট DBBL School Savers Account নামে পরিচিত এবং এটি বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় স্টুডেন্ট একাউন্ট।

সুবিধা:

  • একাউন্ট খুলতে কোনো চার্জ নেই
  • আজীবন বিনামূল্যে DBBL নেক্সাস কার্ড
  • যেকোনো ব্যাংকের এটিএম থেকে টাকা তোলা যায়
  • জমাকৃত টাকার বিপরীতে বার্ষিক সুদ পাওয়া যায় (শর্ত প্রযোজ্য)
  • নেক্সাস পে অ্যাপ ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সুবিধা
  • একাউন্ট বাতিল করলে ডিপোজিটের ৫০০ টাকা ফেরত পাওয়া যায়
  • সার্বক্ষণিক কাস্টমার কেয়ার: ১৬২১৬

সীমাবদ্ধতা:

  • চেক বই পাওয়া যায় না
  • লেনদেনের সীমা নির্ধারিত আছে
  • ৫,০০০ টাকার বেশি ব্যালেন্স থাকলে ৬ মাস পর পর মেইনটেন্যান্স ফি প্রযোজ্য

ন্যূনতম জমা: ৫০০ টাকা

২. ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ স্টুডেন্ট একাউন্ট

শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং পছন্দ করলে ইসলামী ব্যাংক একটি চমৎকার বিকল্প।

একাউন্ট খোলার পদ্ধতি:

  • সরাসরি ব্যাংকে গিয়ে অথবা Cellfin অ্যাপ-এর মাধ্যমে

সুবিধা:

  • মাত্র ১০০ টাকায় একাউন্ট খোলা যায়
  • বিনামূল্যে ভিসা ক্লাসিক ডেবিট কার্ড
  • ১৮ বছরের নিচে হলে অভিভাবকের মাধ্যমে ম্যানেজ করার সুবিধা
  • মাত্র ৪০ টাকায় চেক বই পাওয়া যায়
  • ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নগদ ও বিকাশে লেনদেন
  • যেকোনো লেনদেনে বিনামূল্যে এসএমএস সতর্কতা

ন্যূনতম জমা: ১০০ টাকা

৩. AB Bank স্টুডেন্ট একাউন্ট

AB Bank শিক্ষার্থীদের জন্য ২ ধরনের একাউন্ট অফার করে:

  • AB মাইনর একাউন্ট — ১৮ বছরের নিচের শিক্ষার্থীদের জন্য, ন্যূনতম ১০০ টাকায় খোলা যায়
  • AB স্টুডেন্ট একাউন্ট — ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য, ন্যূনতম ৫০০ টাকায় খোলা যায়

সুবিধা:

  • ডুয়েল কারেন্সি মাস্টারকার্ড / প্লাটিনাম ডেবিট কার্ডের সুবিধা
  • অনলাইন ব্যাংকিং সেবা

৪. UCB Bank (United Commercial Bank) স্টুডেন্ট একাউন্ট

UCB Bank ১৯৮৩ সাল থেকে বাংলাদেশে ব্যাংকিং করছে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য UCB মাইনর একাউন্ট অফার করে।

সুবিধা:

  • ভিসা/মাস্টারকার্ড ডেবিট কার্ড
  • মাত্র ১০০ টাকায় একাউন্ট খোলা
  • ২৪/৭ কাস্টমার সার্ভিস: ১৬৪১৯

৫. সোনালী ব্যাংক স্টুডেন্ট একাউন্ট (স্কুল ব্যাংকিং)

বাংলাদেশের সরকারি সবচেয়ে বড় ব্যাংক সোনালী ব্যাংক শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ব্যাংকিং একাউন্ট পরিচালনা করে।

কারা পাবেন: ৬ থেকে ১৮ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থী

সুবিধা:

  • মাত্র ১০০ টাকায় একাউন্ট খোলা যায়
  • বিনামূল্যে ডেবিট কার্ড ও এসএমএস সতর্কতা
  • ১৮ বছর পূর্ণ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাবে রূপান্তরিত হয়

৬. ব্র্যাক ব্যাংক স্টুডেন্ট একাউন্ট

ব্র্যাক ব্যাংক বিশেষত উচ্চশিক্ষার্থীদের (বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী) জন্য স্টুডেন্ট একাউন্ট অফার করে।

সুবিধা:

  • মাল্টি কারেন্সি ট্রানজেকশন সুবিধা
  • বিনামূল্যে একাউন্ট মেইনটেন্যান্স
  • ডিজিটাল ব্যাংকিং সুবিধা

ন্যূনতম জমা: মাত্র ২৫০ টাকা

স্টুডেন্ট একাউন্টের প্রধান সুবিধাসমূহ

একটি স্টুডেন্ট ব্যাংক একাউন্ট থাকলে আপনি যে সুবিধাগুলো পাবেন:

  • বৃত্তি ও মেধাবৃত্তির টাকা সরাসরি পাওয়া — সরকারি বা বেসরকারি উপবৃত্তি পেতে ব্যাংক একাউন্ট আবশ্যক
  • পরিবার থেকে নিরাপদে অর্থ গ্রহণ — বিকাশ বা ক্যাশে পাঠানোর চেয়ে ব্যাংকে টাকা আসা নিরাপদ ও কম খরচের
  • অনলাইন কেনাকাটা ও বিল পরিশোধ — ডেবিট কার্ড দিয়ে অনলাইনে যেকোনো পেমেন্ট করা যায়
  • ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় — অল্প বয়স থেকেই সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা
  • ক্যারিয়ার শুরুতে সুবিধা — চাকরি পেলে বেতন পাওয়ার জন্য আগে থেকেই ব্যাংক একাউন্ট প্রস্তুত থাকে
  • রেস্তোরাঁ ও শপিংয়ে ডিসকাউন্ট — অনেক ব্যাংক কার্ডে বিভিন্ন দোকানে বিশেষ ছাড় পাওয়া যায়
  • ক্রেডিট হিস্ট্রি তৈরি — ভবিষ্যতে লোন বা ক্রেডিট কার্ড পেতে পূর্বের ব্যাংকিং রেকর্ড কাজে লাগে

বিভিন্ন ব্যাংকের স্টুডেন্ট একাউন্ট তুলনামূলক সারসংক্ষেপ

ব্যাংকন্যূনতম জমাডেবিট কার্ডমোবাইল ব্যাংকিংবিশেষ সুবিধা
ডাচ-বাংলা ব্যাংক৫০০ টাকাবিনামূল্যে নেক্সাস কার্ডআছে (নেক্সাস পে)সব এটিএমে ব্যবহার
ইসলামী ব্যাংক১০০ টাকাভিসা ডেবিট কার্ডআছে (Cellfin)শরিয়াহভিত্তিক
সোনালী ব্যাংক১০০ টাকাআছেআছেসরকারি বৃত্তি সহজে
AB Bank১০০ টাকামাস্টারকার্ড/ভিসাআছেডুয়েল কারেন্সি কার্ড
UCB Bank১০০ টাকাভিসা/মাস্টারকার্ডআছে২৪/৭ সার্ভিস
ব্র্যাক ব্যাংক২৫০ টাকাআছেআছেমাল্টি কারেন্সি

বিকাশ স্টুডেন্ট একাউন্ট — ব্যাংক নয়, তবু জনপ্রিয়

অনেকে ব্যাংক স্টুডেন্ট একাউন্টের পাশাপাশি বিকাশ স্টুডেন্ট একাউন্ট নিয়েও জানতে চান। এটি মূলত একটি মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস, ব্যাংক একাউন্ট নয়।

বিকাশ স্টুডেন্ট একাউন্ট যোগ্যতা:

  • বয়স ১৪ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে হতে হবে
  • ডিজিটাল জন্ম সনদ থাকতে হবে
  • মা/বাবার সচল বিকাশ একাউন্ট থাকতে হবে

কীভাবে খুলবেন: ১. বিকাশ অ্যাপ ডাউনলোড করুন (Google Play বা App Store) ২. লগইন/রেজিস্ট্রেশনে ট্যাপ করুন ৩. আইডির ধরন হিসেবে “জন্ম সনদ” বেছে নিন ৪. মা/বাবার নম্বরে যাওয়া ভেরিফিকেশন কোড দিন ৫. ৫ সংখ্যার পিন সেট করুন — একাউন্ট সক্রিয়!

ওয়েলকাম অফার: নতুন বিকাশ স্টুডেন্ট একাউন্ট খুলে ১৩০ টাকা পর্যন্ত ওয়েলকাম বোনাস পাওয়া যেতে পারে (অফার সময়মতো পরিবর্তন হতে পারে)।

স্টুডেন্ট একাউন্ট ব্যবহারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

একটি স্টুডেন্ট একাউন্ট খোলার পর এটি সঠিকভাবে পরিচালনা করুন:

  • পিন বা পাসওয়ার্ড কাউকে দেবেন না — একাউন্টের নিরাপত্তা আপনার দায়িত্ব
  • নিয়মিত ব্যালেন্স চেক করুন — অস্বাভাবিক কোনো লেনদেন দেখলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকে জানান
  • মাসিক বাজেট তৈরি করুন — আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখুন
  • ন্যূনতম ব্যালেন্স বজায় রাখুন — যাতে অযথা চার্জ না কাটে
  • মোবাইল ব্যাংকিং চালু করুন — ঘরে বসেই সব সেবা পাওয়া যাবে
  • একাউন্টের শর্তাবলি পড়ুন — কোন কোন ক্ষেত্রে চার্জ লাগে সেটা জেনে নিন

প্রায়শই জিজ্ঞেস করা প্রশ্ন

স্টুডেন্ট ব্যাংক একাউন্ট খুলতে কত টাকা লাগে?

বেশিরভাগ ব্যাংকে মাত্র ১০০ থেকে ৫০০ টাকা প্রাথমিক জমা দিয়ে স্টুডেন্ট একাউন্ট খোলা যায়। সোনালী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক ও UCB Bank-এ মাত্র ১০০ টাকায় শুরু করা যায়। ব্র্যাক ব্যাংকে ২৫০ টাকা এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংকে ৫০০ টাকা প্রয়োজন।

এনআইডি ছাড়া কি ব্যাংক একাউন্ট খোলা যায়?

হ্যাঁ। যাদের এখনো জাতীয় পরিচয়পত্র হয়নি, তারা জন্ম নিবন্ধন সনদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র দিয়ে স্টুডেন্ট একাউন্ট খুলতে পারবেন। এক্ষেত্রে অভিভাবকের NID প্রয়োজন হয়।

স্কুলের ছাত্র কি ব্যাংক একাউন্ট খুলতে পারবে?

হ্যাঁ পারবে। সোনালী ব্যাংকের স্কুল ব্যাংকিং একাউন্ট মাত্র ৬ বছর বয়স থেকেও খোলা যায়, তবে সেটি অভিভাবকের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বেশিরভাগ ব্যাংক ১৪–১৮ বছর বয়সীদের একাউন্ট অভিভাবকের অনুমতিতে খুলতে দেয়।

স্টুডেন্ট একাউন্টে কি চেক বই পাওয়া যায়?

সব ব্যাংকে নয়। ডাচ-বাংলা ব্যাংকের স্টুডেন্ট একাউন্টে চেক বই দেওয়া হয় না। তবে ইসলামী ব্যাংকে মাত্র ৪০ টাকায় চেক বই পাওয়া যায়।

স্টুডেন্ট একাউন্ট কি পরে সাধারণ একাউন্টে রূপান্তর করা যায়?

হ্যাঁ। বেশিরভাগ ব্যাংকে শিক্ষার্থীর বয়স ১৮ পূর্ণ হলে বা পড়াশোনা শেষ হলে একাউন্টটি সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাবে রূপান্তরিত করা যায়। সোনালী ব্যাংকে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই হয়।

কোন ব্যাংকের স্টুডেন্ট একাউন্ট সবচেয়ে ভালো?

নির্দিষ্ট একটি উত্তর নেই, কারণ এটি আপনার চাহিদার উপর নির্ভর করে। ডিজিটাল সুবিধার জন্য ডাচ-বাংলা ব্যাংক বা ব্র্যাক ব্যাংক ভালো। শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং চাইলে ইসলামী ব্যাংক। সরকারি বৃত্তি বা উপবৃত্তি পেতে সোনালী ব্যাংক সুবিধাজনক।

বিদেশ থেকে পড়লে কি বাংলাদেশে স্টুডেন্ট একাউন্ট রাখা যাবে?

হ্যাঁ। আপনার একাউন্ট সক্রিয় রাখতে পারবেন, তবে ব্যাংক অনুযায়ী নিয়মকানুন আলাদা হতে পারে। ব্র্যাক ব্যাংক অনলাইনে একাউন্ট খোলার সুবিধা দেয়।

সংশ্লিষ্ট সাধারণ প্রশ্ন

১৮ বছরের নিচে কি স্বাধীনভাবে ব্যাংক একাউন্ট পরিচালনা করা যায়?
না। ১৮ বছরের নিচে অভিভাবক (মা/বাবা বা আইনগত অভিভাবক) একাউন্ট পরিচালক হিসেবে থাকবেন। তবে ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষার্থী নিজেও সীমিত পরিসরে একাউন্ট ব্যবহার করতে পারেন।

স্টুডেন্ট একাউন্টে কি লোন পাওয়া যায়?
সরাসরি স্টুডেন্ট একাউন্টে সাধারণত ঋণ সুবিধা থাকে না। তবে সোনালী ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক উচ্চশিক্ষার জন্য আলাদা স্টুডেন্ট লোন স্কিম পরিচালনা করে।

অনলাইনে কি স্টুডেন্ট একাউন্ট খোলা যায়?
কিছু ব্যাংক যেমন ইসলামী ব্যাংক (Cellfin অ্যাপে) এবং ব্র্যাক ব্যাংক অনলাইনে স্টুডেন্ট একাউন্ট খোলার সুবিধা দিচ্ছে। তবে বেশিরভাগ ব্যাংকে এখনও শাখায় যেতে হয়।

স্টুডেন্ট একাউন্টে কি উপবৃত্তির টাকা আসে?
হ্যাঁ। সরকারের বিভিন্ন উপবৃত্তি কর্মসূচির টাকা সরাসরি ব্যাংক একাউন্টে পাঠানো হয়। সোনালী ব্যাংক ও অন্যান্য সরকারি ব্যাংকে এই সুবিধা বেশি প্রযোজ্য।

স্টুডেন্ট একাউন্টে কি ইন্টারনেট ব্যাংকিং সুবিধা আছে?
হ্যাঁ। প্রায় সব আধুনিক ব্যাংকের স্টুডেন্ট একাউন্টে মোবাইল অ্যাপ ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সুবিধা থাকে। ব্যাংকের শাখা থেকে অথবা অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করে এই সেবা চালু করতে হয়।

শেষকথা

স্টুডেন্ট ব্যাংক একাউন্ট খোলা এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়ে গেছে। মাত্র কয়েকটি কাগজপত্র নিয়ে যেকোনো ব্যাংক শাখায় গেলেই ৩০ মিনিটের মধ্যে একাউন্ট চালু হয়ে যায়। বৃত্তি, উপবৃত্তি, বা পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেওয়া — সব কাজেই এই একাউন্ট কাজে লাগে।

আপনার কাছের ব্যাংক, ডিজিটাল সুবিধা এবং ব্যক্তিগত চাহিদা বিবেচনা করে সঠিক ব্যাংকটি বেছে নিন। মনে রাখবেন — অল্প বয়সে ব্যাংকিং অভ্যাস গড়ে তুললে ভবিষ্যতে আর্থিক পরিকল্পনা করা অনেক সহজ হয়।

বিশ্বাসযোগ্য সোর্স:

  • বাংলাদেশ ব্যাংক অফিশিয়াল ওয়েবসাইট: www.bb.org.bd
  • ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড অফিশিয়াল ওয়েবসাইট: www.dutchbanglabank.com
  • ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড: www.islamibankbd.com
  • সোনালী ব্যাংক পিএলসি: www.sonalibank.com.bd
  • AB Bank PLC: www.abbl.com

Leave a Comment