২০২৬ সালে পৃথিবীতে মোট চারটি গ্রহণ হয়েছে: দুটি সূর্যগ্রহণ আর দুটি চন্দ্রগ্রহণ। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে দেখা গেছে শুধু একটি, ৩ মার্চের পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। নিচে প্রতিটি গ্রহণের তারিখ, বাংলাদেশ সময় আর কেন দেখা গেছে বা যায়নি, সেটা সহজভাবে দিলাম।
এক নজরে ২০২৬ সালের সব গ্রহণ
| তারিখ | গ্রহণের ধরন | বাংলাদেশ থেকে দেখা গেছে? |
|---|---|---|
| ১৭ ফেব্রুয়ারি | বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ | না |
| ৩ মার্চ | পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ | হ্যাঁ (শেষ অংশ) |
| ১২ আগস্ট | পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ | না |
| ২৮ আগস্ট | খণ্ডগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ | না |
৩ মার্চের পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ (ব্লাড মুন)
এটাই ছিল ২০২৬ সালের একমাত্র পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ। গ্রহণের সময় চাঁদ লালচে হয়ে যায়, তাই একে “ব্লাড মুন” বলে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী গ্রহণের ধাপগুলো ছিল এরকম:
| ধাপ | বাংলাদেশ সময় |
|---|---|
| উপচ্ছায়া গ্রহণ শুরু | দুপুর ২টা ৪২ মিনিট |
| আংশিক গ্রহণ শুরু | বিকেল ৩টা ৫০ মিনিট |
| পূর্ণগ্রাস শুরু | বিকেল ৫টা ০৪ মিনিট |
| সর্বোচ্চ গ্রহণ | বিকেল ৫টা ৩৩ মিনিট |
| পূর্ণগ্রাস শেষ | সন্ধ্যা ৬টা ০৩ মিনিট |
| আংশিক গ্রহণ শেষ | সন্ধ্যা ৭টা ১৮ মিনিট |
| উপচ্ছায়া গ্রহণ শেষ | রাত ৮টা ২৪ মিনিট |
পুরোটা কেন দেখা যায়নি? গ্রহণ শুরু হয়েছিল দুপুরে, তখন বাংলাদেশের আকাশে চাঁদ ওঠেইনি। সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে চাঁদ ওঠার পর থেকে গ্রহণের শেষের অংশ দেখা গেছে। যেমন চট্টগ্রামে চাঁদ ওঠে বিকেল ৫টা ৫৬ মিনিটে, তাই সেখানে পূর্ণগ্রাসের একদম শেষ কয়েক মিনিট আর এরপর আংশিক গ্রহণ দেখা গেছে। পশ্চিমের জেলাগুলোতে চাঁদ আরও একটু দেরিতে উঠেছে।
সেসময় কিছু খবরে পূর্ণগ্রাস শুরুর সময় বিকেল ৫টা ২৮ মিনিট লেখা হয়েছিল। এখানে আইএসপিআরের দেওয়া সময় ধরা হয়েছে, যা নাসার সময়ের (১১টা ০৪ মিনিট UTC) সাথে মেলে।
১৭ ফেব্রুয়ারির বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ
এই গ্রহণে চাঁদ সূর্যের মাঝখান ঢেকে দেয়, চারপাশে আগুনের আংটির মতো একটা বলয় দেখা যায়। কিন্তু গ্রহণের সময় বাংলাদেশে সন্ধ্যা ও রাত ছিল, তাই দেশ থেকে দেখা যায়নি। এটি দেখা গেছে মূলত অ্যান্টার্কটিকা, দক্ষিণ আফ্রিকা, আর্জেন্টিনা ও চিলি থেকে।
১২ আগস্টের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ
বছরের সবচেয়ে আলোচিত গ্রহণ ছিল এটা। গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও স্পেনসহ ইউরোপের কিছু অংশে কয়েক মিনিটের জন্য দিনের বেলা অন্ধকার নেমেছিল। বাংলাদেশে তখন রাত ছিল, তাই এখান থেকে দেখার কোনো সুযোগ ছিল না।
২৮ আগস্টের খণ্ডগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ
এই গ্রহণে চাঁদের বড় একটা অংশ পৃথিবীর ছায়ায় ঢাকা পড়েছিল, তবে পুরোটা নয়। গ্রহণের সর্বোচ্চ সময় ছিল বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টার কিছু পরে। দিনের বেলা চাঁদ দিগন্তের নিচে থাকায় বাংলাদেশ থেকে এটি দেখা যায়নি। এটি দেখা গেছে আমেরিকা, ইউরোপ ও আফ্রিকার বিভিন্ন জায়গা থেকে।
চন্দ্রগ্রহণ আর সূর্যগ্রহণের পার্থক্য সহজ কথায়
- সূর্যগ্রহণ: চাঁদ সূর্য আর পৃথিবীর মাঝখানে চলে আসে। হয় অমাবস্যায়, দিনের বেলা।
- চন্দ্রগ্রহণ: পৃথিবী সূর্য আর চাঁদের মাঝখানে চলে আসে, পৃথিবীর ছায়া পড়ে চাঁদে। হয় পূর্ণিমায়, রাতে।
চন্দ্রগ্রহণ খালি চোখে দেখা নিরাপদ। কিন্তু সূর্যগ্রহণ কখনোই খালি চোখে, সানগ্লাস দিয়ে বা এক্স-রে ফিল্ম দিয়ে দেখবেন না। শুধু সার্টিফাইড সোলার ফিল্টার বা গ্রহণ দেখার বিশেষ চশমা ব্যবহার করুন, নইলে চোখের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।
সাধারণ কিছু প্রশ্ন
২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে কয়টি গ্রহণ দেখা গেছে?
একটি। ৩ মার্চের পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ, তাও শুধু শেষের অংশ।
পরের পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ কবে?
পরের পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ হবে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাত থেকে ২০২৯ সালের ১ জানুয়ারি। মাঝের সময়ে কিছু আংশিক গ্রহণ হবে।
গ্রহণের সঠিক সময় কোথায় পাব?
বাংলাদেশে গ্রহণের আগে আইএসপিআর সাধারণত বিভাগীয় শহর অনুযায়ী সময় জানিয়ে দেয়। আন্তর্জাতিক সময়ের জন্য নাসার ওয়েবসাইট নির্ভরযোগ্য। নাসা UTC সময় দেয়, সেটার সাথে ৬ ঘণ্টা যোগ করলে বাংলাদেশ সময় পাবেন।
আমি মারুফ, গত ৫ বছর ধরে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্র্যান্ডিং এবং কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করছি। বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে আমি দেখেছি কিভাবে একটি ছোট স্লোগান একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে।