প্রতিদিনের আমল ও দোয়া কী এবং কেন করবেন?
প্রতিদিনের আমল ও দোয়া হলো সেই নির্দিষ্ট ইবাদত, জিকির ও প্রার্থনা যেগুলো রাসুলুল্লাহ (সা.) সকাল-সন্ধ্যা, ঘুমানোর আগে-পরে এবং দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে নিয়মিত পালন করতেন ও সাহাবিদের শিক্ষা দিয়েছেন। এগুলো পালন করলে বিপদ থেকে সুরক্ষা, মানসিক প্রশান্তি, রিজিকে বরকত এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হয়।
ব্যস্ত জীবনে অনেকে জানতে চান — ঠিক কোন আমলটি কোন সময়ে করতে হবে, আরবি কী, উচ্চারণ কী, আর ফজিলত কী? এই আর্টিকেলে পুরো দিনের রুটিন ধরে ধরে সব কিছু সহজে বলা হয়েছে।
সকালের আমল ও দোয়া (ফজরের পর)
ঘুম থেকে ওঠার দোয়া
ঘুম ভাঙার সাথে সাথে প্রথম যে দোয়াটি পড়তে হয়:
আরবি:
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُورُ
উচ্চারণ: আলহামদুলিল্লাহিল্লাযি আহ্ইয়ানা বা’দা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর।
অর্থ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের ঘুমের (মৃত্যুর) পর আবার জীবিত করলেন। আর তাঁরই দিকে আমাদের ফিরে যেতে হবে।
📖 সূত্র: সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৩১২; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৭১১
ফজরের পর সাইয়্যেদুল ইস্তিগফার
আরবি:
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ…
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আনতা, খালাক্বতানি ওয়া আনা আবদুক, ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাস্তাতা’তু। আউযু বিকা মিন শাররি মা সানা’তু, আবুউ লাকা বিনি’মাতিকা আলাইয়্যা, ওয়া আবুউ বিযাম্বি, ফাগফিরলি, ফাইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয যুনুবা ইল্লা আনতা।
অর্থ: হে আল্লাহ! তুমিই আমার রব, তুমি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ এবং আমি তোমার বান্দা। আমি তোমার সাথে প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকারের উপর আছি যথাসাধ্য। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। তোমার নেয়ামত আমার উপর রয়েছে তা স্বীকার করি এবং আমার পাপও স্বীকার করি। তুমি আমাকে ক্ষমা করো, কেননা তুমি ছাড়া আর কেউ পাপ ক্ষমা করতে পারে না।
📖 ফজিলত: যে ব্যক্তি বিশ্বাসের সাথে সকালে এই দোয়া পড়বে এবং সন্ধ্যার আগে মারা যাবে, সে জান্নাতি। একইভাবে সন্ধ্যায় পড়লে রাতে মারা গেলেও জান্নাতি। (সহিহ বুখারি: ৬৩০৬)
ফজরের পর সকালের জিকির — তিনটি তাসবিহ
প্রতিটি ৩৩ বার করে পড়ুন:
- সুবহানাল্লাহ — আল্লাহ কতই পবিত্র (৩৩ বার)
- আলহামদুলিল্লাহ — সকল প্রশংসা আল্লাহর (৩৩ বার)
- আল্লাহু আকবার — আল্লাহ মহান (৩৩ বার)
তারপর একবার বলুন:
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহ, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু, ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইইন কাদির।
📖 সূত্র: সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৯৭
ফজরের পর বিশেষ দোয়া — উপকারী ইলম, হালাল রিজিক ও কবুল আমলের জন্য
আরবি:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا وَرِزْقًا طَيِّبًا وَعَمَلًا مُتَقَبَّلًا
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমান নাফিআন ওয়া রিযকান তায়্যিবান ওয়া আমালান মুতাকাব্বালান।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে উপকারী জ্ঞান, হালাল রিজিক ও কবুলযোগ্য আমল প্রার্থনা করি।
📖 সূত্র: ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৯২৫ (ফজরের নামাজের পর পড়া)
সকালের সুরক্ষার দোয়া — আয়াতুল কুরসি
গুরুত্ব: যে ব্যক্তি ফজরের নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়বে, তার এবং জান্নাতের মধ্যে শুধু মৃত্যুর পর্দা থাকবে। (নাসাঈ, সহিহ আল-জামি)
আয়াতুল কুরসি (সূরা বাকারা: ২৫৫) প্রতিটি ফরজ নামাজের পর পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
দিনের মধ্যবর্তী আমল ও দোয়া
খাবার খাওয়ার আগের দোয়া
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহ
খাওয়ার পরের দোয়া:
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَطْعَمَنِي هَذَا وَرَزَقَنِيهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّي وَلَا قُوَّةٍ
উচ্চারণ: আলহামদুলিল্লাহিল্লাযি আতআমানি হাযা ওয়া রাযাকানিহি মিন গাইরি হাউলিন মিন্নি ওয়ালা কুওয়্যাহ।
অর্থ: সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাকে এটি খাইয়েছেন এবং আমার কোনো শক্তি ও সামর্থ্য ছাড়াই এটি আমাকে দান করেছেন।
📖 সূত্র: আবু দাউদ, হাদিস: ৪০২৩; তিরমিযি, হাদিস: ৩৪৫৮
বাড়ি থেকে বের হওয়ার দোয়া
আরবি:
بِسْمِ اللَّهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহি ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ।
অর্থ: আল্লাহর নামে বের হচ্ছি, আল্লাহর উপর ভরসা করলাম। আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি ও ক্ষমতা নেই।
📖 ফজিলত: এই দোয়া পড়লে বলা হয়: “তুমি হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছ, রক্ষিত হয়েছ এবং শয়তান তোমার থেকে দূরে সরে গেছে।” (আবু দাউদ: ৫০৯৫)
টয়লেটে প্রবেশ ও বের হওয়ার দোয়া
প্রবেশের আগে: اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযু বিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খাবাইস।
বের হওয়ার পর: غُفْرَانَكَ — উচ্চারণ: গুফরানাক। (অর্থ: তোমার ক্ষমা চাই।)
সন্ধ্যার আমল ও দোয়া (মাগরিবের পর)
সন্ধ্যার আমল শুরু হয় মাগরিবের নামাজের পর থেকে।
সন্ধ্যার শুকরিয়ার দোয়া
আরবি:
اللَّهُمَّ مَا أَمْسَى بِي مِنْ نِعْمَةٍ أَوْ بِأَحَدٍ مِنْ خَلْقِكَ فَمِنْكَ وَحْدَكَ لَا شَرِيكَ لَكَ، فَلَكَ الْحَمْدُ وَلَكَ الشُّكْرُ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা মা আমসা বি মিন নিমাতিন আউ বিআহাদিন মিন খালকিকা ফামিনকা ওয়াহদাকা লা শারিকা লাকা, ফালাকাল হামদু ওয়ালাকাশ শুকরু।
অর্থ: হে আল্লাহ! এই সন্ধ্যায় আমার মাঝে বা তোমার যেকোনো সৃষ্টির মাঝে যা কিছু নেয়ামত আছে, তা শুধু তোমার পক্ষ থেকে। তোমার কোনো শরিক নেই। সুতরাং তোমারই প্রশংসা ও তোমারই কৃতজ্ঞতা।
📖 ফজিলত: হাদিসে এসেছে যে এই দোয়া সন্ধ্যায় পড়লে রাতের শুকরিয়া আদায় হয়ে যায়। (আবু দাউদ: ৫০৭৩)
মাগরিবের পর জাহান্নাম থেকে মুক্তির দোয়া
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান নার।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দাও।
📖 পদ্ধতি: ফজর ও মাগরিবের পর ৭ বার পড়ুন।
📖 ফজিলত: যে ব্যক্তি এই দোয়া ৭ বার পড়বে এবং ওই দিন বা রাতে মারা যাবে, আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন। (আবু দাউদ: ৫০৭৯)
সন্ধ্যার সুরক্ষার দোয়া
আরবি:
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
উচ্চারণ: বিসমিল্লাহিল্লাযি লা ইয়াদুররু মাআস্মিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামাই ওয়াহুয়াস সামিউল আলিম।
অর্থ: আল্লাহর নামে, যার নামের সাথে পৃথিবী বা আকাশে কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।
📖 পদ্ধতি: সকালে ৩ বার ও সন্ধ্যায় ৩ বার পড়ুন।
📖 সূত্র: আবু দাউদ, হাদিস: ৫০৮৮; তিরমিযি, হাদিস: ৩৩৮৮
রাতের আমল ও দোয়া
ঘুমানোর আগের দোয়া
আরবি:
بِاسْمِكَ اللَّهُمَّ أَمُوتُ وَأَحْيَا
উচ্চারণ: বিসমিকাল্লাহুম্মা আমুতু ওয়া আহইয়া।
অর্থ: হে আল্লাহ! তোমার নামেই (রাতে) মরি এবং (সকালে) জীবন ফিরে পাই।
📖 সূত্র: সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৩২৪
ঘুমানোর আগে তিন কুল পড়া
প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে নিচের সূরাগুলো ৩ বার করে পড়ুন এবং উভয় হাতে ফুঁ দিয়ে সারা শরীরে মুছুন:
- সূরা ইখলাস (কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ)
- সূরা ফালাক (কুল আউযু বিরাব্বিল ফালাক)
- সূরা নাস (কুল আউযু বিরাব্বিন নাস)
📖 সূত্র: সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০১৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২১৯২
ঘুমানোর আগে তাসবিহে ফাতেমি
রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর মেয়ে ফাতিমা (রা.)-কে এই আমল শিক্ষা দিয়েছিলেন:
- সুবহানাল্লাহ — ৩৩ বার
- আলহামদুলিল্লাহ — ৩৩ বার
- আল্লাহু আকবার — ৩৪ বার
📖 ফজিলত: এটি দিনের কাজের ক্লান্তি দূর করে, শক্তি বৃদ্ধি করে এবং রাতকে বরকতময় করে। (সহিহ বুখারি: ৩১১৩)
ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি
ফজিলত: যে ব্যক্তি ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়বে, আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন হেফাজতকারী ফেরেশতা সকাল পর্যন্ত তার পাশে থাকবে এবং শয়তান তার কাছে আসতে পারবে না। (সহিহ বুখারি: ২৩১১)
নামাজের পরের আমল ও দোয়া
প্রতিটি ফরজ নামাজের পর নিচের আমলগুলো করুন:
ধাপে ধাপে নামাজ-পরবর্তী আমল:
ধাপ ১ — ইস্তিগফার (৩ বার):
আস্তাগফিরুল্লাহ — (হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাই)
ধাপ ২ — সালাম ও তাকবির:
আল্লাহুম্মা আনতাস সালামু ওয়া মিনকাস সালামু তাবারাকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম।
ধাপ ৩ — তিন তাসবিহ (৩৩+৩৩+৩৪):
সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার, আলহামদুলিল্লাহ ৩৩ বার, আল্লাহু আকবার ৩৪ বার।
ধাপ ৪ — আয়াতুল কুরসি পড়া
📖 সূত্র: সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৯১; নাসাঈ, হাদিস: ১৩৩৩
প্রতিদিনের ছোট কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল
এই আমলগুলো মাত্র কয়েক মিনিটে করা যায়, কিন্তু ফজিলত অনেক বেশি:
- দরুদ পড়া: যে ব্যক্তি একবার নবী (সা.)-এর উপর দরুদ পড়বে, আল্লাহ তার উপর ১০টি রহমত নাজিল করবেন। (সহিহ মুসলিম: ৪০৮)
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ। - লা হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ পড়া — জান্নাতের সম্পদ। (সহিহ বুখারি: ৪২০৫)
- সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সকাল-সন্ধ্যা ১০০ বার পড়া — কেউ কিয়ামতে এর চেয়ে বেশি সওয়াব নিয়ে আসতে পারবে না। (সহিহ মুসলিম: ২৬৯২)
সপ্তাহের বিশেষ আমল
| দিন | বিশেষ আমল |
|---|---|
| জুমআর দিন | সূরা কাহফ পাঠ, বেশি বেশি দরুদ পড়া |
| সোমবার ও বৃহস্পতিবার | রোজা রাখার চেষ্টা করা |
| প্রতি রাত | সূরা মুলক পড়া — কবরের আজাব থেকে রক্ষা করবে |
প্রতিদিনের আমলের রুটিন
সকালের রুটিন (ফজরের পর)
১. ঘুম থেকে ওঠার দোয়া পড়ুন
২. মুখ ও হাত ধুয়ে ওযু করুন
৩. ফজর নামাজ আদায় করুন (সম্ভব হলে মসজিদে জামাতের সাথে)
৪. নামাজের পর ইস্তিগফার, তাসবিহ ও আয়াতুল কুরসি পড়ুন
৫. সাইয়্যেদুল ইস্তিগফার পড়ুন
৬. সকালের ৩টি তাসবিহ (৩৩+৩৩+৩৩+১) পড়ুন
৭. সকালের উপকারী ইলম ও রিজিকের দোয়া পড়ুন
দিনের রুটিন
- প্রতিটি কাজে বিসমিল্লাহ বলুন
- বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে দোয়া পড়ুন
- খাওয়ার আগে-পরে দোয়া পড়ুন
- যোহর, আসর নামাজ ও নামাজ-পরবর্তী আমল করুন
সন্ধ্যার রুটিন (মাগরিবের পর)
- সন্ধ্যার শুকরিয়া দোয়া পড়ুন
- ৭ বার আজাব থেকে মুক্তির দোয়া পড়ুন
- সুরক্ষার দোয়া ৩ বার পড়ুন
- এশা নামাজ আদায় করুন
রাতের রুটিন (ঘুমানোর আগে)
- তিন কুল (ইখলাস, ফালাক, নাস) ৩ বার পড়ে শরীরে মুছুন
- তাসবিহে ফাতেমি পড়ুন
- আয়াতুল কুরসি পড়ুন
- ঘুমানোর দোয়া পড়ুন
এই আমলগুলো কি ব্যস্ত মানুষের পক্ষে সম্ভব?
হ্যাঁ, একেবারেই সম্ভব। কারণ:
- বেশিরভাগ আমল মাত্র ৩০ সেকেন্ড থেকে ২ মিনিটের মধ্যে শেষ হয়
- অনেক দোয়া রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে, অফিসে যেতে যেতে বা অপেক্ষার সময়ে পড়া যায়
- মোবাইলে একটি সহজ অ্যাপ রেখে দিলে সহজে মনে থাকে
- প্রথমে ২-৩টি আমল দিয়ে শুরু করুন, ধীরে ধীরে বাড়ান
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “আল্লাহর কাছে সেই আমলই সবচেয়ে প্রিয় যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা পরিমাণে কম হয়।” (সহিহ বুখারি: ৬৪৬৫)
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
প্রশ্ন ১: সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমে কী দোয়া পড়তে হয়?
ঘুম থেকে উঠেই পড়তে হয়: “আলহামদুলিল্লাহিল্লাযি আহ্ইয়ানা বা’দা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর।” — অর্থ: সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের ঘুমের পর জীবিত করলেন এবং তাঁরই দিকে ফিরে যেতে হবে। (সহিহ বুখারি: ৬৩১২)
প্রশ্ন ২: প্রতিদিন কোন আমলটি অবশ্যই করা উচিত?
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়া এবং ঘুমানোর আগে তিন কুল পড়া — এই দুটো আমল প্রতিদিন অবশ্যই করা উচিত। হাদিসে এর অসাধারণ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।
প্রশ্ন ৩: সারাদিন বরকত পেতে কী আমল করব?
সকালে ফজরের পর সাইয়্যেদুল ইস্তিগফার এবং “আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমান নাফিআন…” দোয়াটি পড়ুন। এছাড়া প্রতিটি কাজে বিসমিল্লাহ বলার অভ্যাস গড়ুন।
প্রশ্ন ৪: ঘুমানোর আগে কোন দোয়া পড়লে রাত ভালো যাবে?
তিন কুল (সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস) ৩ বার পড়ে দুই হাতে ফুঁ দিয়ে সারা শরীরে মুছুন, তারপর তাসবিহে ফাতেমি (৩৩+৩৩+৩৪) পড়ুন এবং আয়াতুল কুরসি পড়ে ঘুমান।
প্রশ্ন ৫: সকাল-সন্ধ্যার আমলের গুরুত্ব কী?
সকাল-সন্ধ্যার আমল শুধু আধ্যাত্মিক পুরস্কার নয়, এটি বান্দার চারপাশে একটি অদৃশ্য সুরক্ষার বলয় তৈরি করে। এই আমলগুলো মানসিক প্রশান্তি, নেতিবাচক চিন্তা থেকে মুক্তি ও দিনকে গুছিয়ে শুরু করতে সাহায্য করে।
প্রশ্ন ৬: নামাজের পর কোন তাসবিহ পড়তে হয়?
নামাজের পর সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার, আলহামদুলিল্লাহ ৩৩ বার এবং আল্লাহু আকবার ৩৪ বার পড়তে হয়। তারপর একবার “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু…” পড়তে হয়। (সহিহ মুসলিম: ৫৯৭)
প্রশ্ন ৭: রিজিক বাড়ানোর দোয়া কোনটি?
রিজিক বাড়ানোর জন্য ফজরের পর নিয়মিত পড়ুন: “আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা রিযকান তায়্যিবান…” এবং সকালে বেশি বেশি ইস্তিগফার পড়ুন। আল্লাহ বলেছেন: “তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা করো, তিনি তোমাদের রিজিক বাড়িয়ে দেবেন।” (সূরা নূহ: ১০-১২)
বিশ্বাসযোগ্য সূত্র ও রেফারেন্স
- সহিহ বুখারি (ইমাম বুখারি, মৃ. ২৫৬ হিজরি)
- সহিহ মুসলিম (ইমাম মুসলিম, মৃ. ২৬১ হিজরি)
- সুনানে আবু দাউদ (আবু দাউদ সিজিস্তানি, মৃ. ২৭৫ হিজরি)
- জামে তিরমিযি (ইমাম তিরমিযি, মৃ. ২৭৯ হিজরি)
- সুনানে ইবনে মাজাহ (ইবনে মাজাহ, মৃ. ২৭৩ হিজরি)
- রিয়াদুস সালিহিন (ইমাম নববি)
- hadithbd.com ও islamqa.info (যাচাইকৃত হাদিস সোর্স)
লেখকের নোট: এই আর্টিকেলে উল্লিখিত সকল হাদিস সহিহ (বিশুদ্ধ) সনদে বর্ণিত। কোনো দুর্বল বা জাল হাদিস অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। আমল শুরু করার আগে নিশ্চিত থাকুন যে আমলটির ভিত্তি কুরআন ও সহিহ সুন্নাহ। আল্লাহ আমাদের সকলকে নিয়মিত আমলের তওফিক দিন। আমিন।
আর্টিকেল শেষ | শেয়ার করুন এবং অন্যদেরও উপকৃত করুন
আমি মারুফ, গত ৫ বছর ধরে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্র্যান্ডিং এবং কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করছি। বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে আমি দেখেছি কিভাবে একটি ছোট স্লোগান একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে।