যুগ্ম আহবায়কের কাজ কি?

আপনি কি কোনো রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন বা ক্লাবের আহবায়ক কমিটিতে পদ পেয়েছেন, অথবা এই পদটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইছেন? যদি আপনার প্রশ্ন হয় যুগ্ম আহবায়কের কাজ কি, তবে সহজ উত্তর হলো:

একটি আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক (Joint Convener) হলেন আহবায়কের প্রধান সহযোগী। তাঁর মূল কাজ হলো আহবায়কের অনুপস্থিতিতে সাংগঠনিক নেতৃত্ব দেওয়া, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য কাউন্সিল বা নির্বাচনের আয়োজন করা এবং আহবায়কের নির্দেশ অনুযায়ী তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের সমন্বয় করা।

একজন যুগ্ম আহবায়ক মূলত একটি “অন্তর্বর্তীকালীন” বা “অ্যাডহক” কমিটির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। নিচে এই পদের দায়িত্ব, ক্ষমতা এবং চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

যুগ্ম আহবায়কের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য

বাংলাদেশে সাধারণত কোনো কমিটি বিলুপ্ত করার পর নতুন কমিটি গঠনের আগে যে “আহবায়ক কমিটি” বা “প্রস্তুতি কমিটি” করা হয়, সেখানেই এই পদটি থাকে। কাজের সুবিধার্থে একজন যুগ্ম আহবায়কের কাজকে আমরা ৪টি প্রধান ভাগে ভাগ করতে পারি:

১. আহবায়ককে সার্বিক সহায়তা করা

যুগ্ম আহবায়কের প্রাথমিক কাজ হলো সংগঠনের প্রধান বা আহবায়ককে লজিস্টিক এবং নীতিনির্ধারণী কাজে সাহায্য করা।

  • মিটিংয়ের এজেন্ডা বা আলোচ্যসূচি তৈরিতে পরামর্শ দেওয়া।
  • সাংগঠনিক সফরে আহবায়কের সাথে থাকা বা তার প্রতিনিধিত্ব করা।
  • দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় আহবায়ককে তথ্য দিয়ে সাহায্য করা।

২. ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন (Acting Role)

এটি এই পদের সবচেয়ে ক্রিটিক্যাল অংশ।

  • কোনো কারণে আহবায়ক অসুস্থ থাকলে, দেশের বাইরে গেলে বা অনুপস্থিত থাকলে ১ নম্বর যুগ্ম আহবায়ক ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক হিসেবে পূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
  • এসময় তিনি রুটিন মাফিক সভার সভাপতিত্ব এবং দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করেন।

৩. কাউন্সিল বা সম্মেলন প্রস্তুতি (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ)

আহবায়ক কমিটির মূল লক্ষ্যই থাকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে (যেমন: ৩ মাস বা ৬ মাস) সম্মেলন বা কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি উপহার দেওয়া।

  • সদস্য সংগ্রহ অভিযান পরিচালনা করা।
  • ভোটার তালিকা বা কাউন্সিলর তালিকা যাচাই-বাছাই করা।
  • সম্মেলন সফল করার জন্য গঠিত বিভিন্ন উপ-কমিটির কাজ তদারকি করা।

৪. সাংগঠনিক সমন্বয় ও জনসংযোগ

  • তৃণমূল বা অধস্তন ইউনিটগুলোর সাথে কেন্দ্রের যোগাযোগ রক্ষা করা।
  • বিভিন্ন বিরোধ বা কোন্দল নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা।

যুগ্ম আহবায়ক বনাম সাধারণ সম্পাদক

অনেকেই যুগ্ম আহবায়ক এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক-এর কাজ গুলিয়ে ফেলেন। গুগল সার্চে এটি একটি জনপ্রিয় জিজ্ঞাসিত বিষয়।

বিষয়যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (Joint Secretary)যুগ্ম আহবায়ক (Joint Convener)
কমিটির ধরনপূর্ণাঙ্গ বা নিয়মিত কমিটি।আহবায়ক বা প্রস্তুতি কমিটি (স্বল্পমেয়াদী)।
মূল লক্ষ্যদীর্ঘমেয়াদে সংগঠন পরিচালনা করা।দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্মেলন/কাউন্সিল আয়োজন করা।
ক্ষমতাসাধারণ সম্পাদকের অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পান।আহবায়কের অনুপস্থিতিতে দায়িত্ব পান।
পদমর্যাদাসাধারণত ৩য় বা ৪র্থ সর্বোচ্চ পদ।আহবায়কের পরেই অবস্থান (২য় সর্বোচ্চ)।

একজন সফল যুগ্ম আহবায়কের ৩টি গুণ

দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার আলোকে বলা যায়, এই পদে সফল হতে হলে তিনটি বিশেষ গুণ থাকা জরুরি:

  1. নেটওয়ার্কিং দক্ষতা: সংগঠনের সকল স্তরের কর্মীদের সাথে ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক রাখা।
  2. নিরপেক্ষতা: নতুন কমিটি গঠনের সময় স্বজনপ্রীতি না করে যোগ্য নেতৃত্ব খুঁজে বের করার মানসিকতা।
  3. ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট: আহবায়ক কমিটির সময়গুলোতে সাধারণত অভ্যন্তরীণ কোন্দল বেশি থাকে, তাই ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

১ নম্বর যুগ্ম আহবায়কের ক্ষমতা কি বেশি?

হ্যাঁ, সাধারণত আহবায়ক কমিটিতে ক্রমিক অনুসারে যুগ্ম আহবায়কদের নাম থাকে। যিনি ১ নম্বর ক্রমিকে থাকেন, তিনি সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে গণ্য হন এবং আহবায়কের অনুপস্থিতিতে তিনিই প্রথম ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পান।

যুগ্ম আহবায়ক কি কাউকে বহিষ্কার করতে পারেন?

না। সাধারণত যুগ্ম আহবায়ক এককভাবে কাউকে বহিষ্কার করতে পারেন না। তিনি আহবায়ক এবং কমিটির অন্য সদস্যদের সাথে আলোচনা করে রেজুলেশনের মাধ্যমে সুপারিশ করতে পারেন, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী হয়।

আহবায়ক কমিটির মেয়াদ কতদিন হয়?

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক বা সামাজিক সংগঠনের আহবায়ক কমিটির মেয়াদ সাধারণত ৯০ দিন (৩ মাস) থেকে শুরু করে ১ বছর পর্যন্ত হতে পারে। এই সময়ের মধ্যে তাদের কাজ শেষ করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে হয়।

শেষ কথা

পরিশেষে, যুগ্ম আহবায়কের কাজ কেবল পদ অলংকৃত করা নয়, বরং একটি ক্রান্তিকালীন সময়ে সংগঠনকে সঠিক পথে রাখা এবং একটি সুন্দর নেতৃত্বের কাঠামো তৈরি করে দেওয়া। আপনি যদি এই দায়িত্বে থাকেন, তবে মনে রাখবেন আপনার সততা এবং কর্মতৎপরতার ওপরই নির্ভর করছে সংগঠনের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।

এই আর্টিকেলটি কি আপনার উপকারে এসেছে? সাংগঠনিক পদ বা দায়িত্ব নিয়ে আপনার আরও কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট করতে পারেন। আমরা দ্রুত উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো।

Leave a Comment