রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আমাদের দুয়ারে কড়া নাড়ছে পবিত্র মাহে রমজান। ২০২৬ সালে (১৪৪৭ হিজরি) রমজান মাস শুরু হতে আর খুব বেশি দেরি নেই। আপনারা যারা আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য ঢাকার সেহরি ও ইফতারের সঠিক সময়সূচি খুঁজছেন, তাদের জন্য এই পূর্ণাঙ্গ ক্যালেন্ডারটি তৈরি করা হয়েছে।
রমজান কবে শুরু হবে?
চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে হিজরি মাস গণনা করা হয়। তবে জ্যোতির্বিজ্ঞান ও গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের রমজান মাস শুরু হতে পারে ১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার)। সেক্ষেত্রে ১৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার দিবাগত রাতে প্রথম তারাবিহ নামাজ অনুষ্ঠিত হবে এবং সেহরি খেতে হবে।
সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০২৬ (ঢাকা)
নিচে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত—এই তিন ভাগে বিভক্ত করে সময়সূচি দেওয়া হলো।
(দ্রষ্টব্য: সেহরির সময়টি হলো শেষ সময়, অর্থাৎ এই সময়ের পর আর খাওয়া যাবে না। সতর্কতার জন্য এই সময়ের ৫ মিনিট আগেই খাওয়া শেষ করা উত্তম।)
প্রথম ১০ দিন: রহমতের দশক
| রোজা | তারিখ | বার | সেহরির শেষ সময় | ইফতারের সময় |
| ০১ | ১৯ ফেব্রুয়ারি | বৃহস্পতিবার | ০৫:১২ মি. | ০৫:৫৮ মি. |
| ০২ | ২০ ফেব্রুয়ারি | শুক্রবার | ০৫:১১ মি. | ০৫:৫৮ মি. |
| ০৩ | ২১ ফেব্রুয়ারি | শনিবার | ০৫:১১ মি. | ০৫:৫৯ মি. |
| ০৪ | ২২ ফেব্রুয়ারি | রবিবার | ০৫:১০ মি. | ০৫:৫৯ মি. |
| ০৫ | ২৩ ফেব্রুয়ারি | সোমবার | ০৫:০৯ মি. | ০৬:০০ মি. |
| ০৬ | ২৪ ফেব্রুয়ারি | মঙ্গলবার | ০৫:০৮ মি. | ০৬:০০ মি. |
| ০৭ | ২৫ ফেব্রুয়ারি | বুধবার | ০৫:০৮ মি. | ০৬:০১ মি. |
| ০৮ | ২৬ ফেব্রুয়ারি | বৃহস্পতিবার | ০৫:০৭ মি. | ০৬:০১ মি. |
| ০৯ | ২৭ ফেব্রুয়ারি | শুক্রবার | ০৫:০৬ মি. | ০৬:০১ মি. |
| ১০ | ২৮ ফেব্রুয়ারি | শনিবার | ০৫:০৫ মি. | ০৬:০২ মি. |
দ্বিতীয় ১০ দিন: মাগফিরাতের দশক
| রোজা | তারিখ | বার | সেহরির শেষ সময় | ইফতারের সময় |
| ১১ | ০১ মার্চ | রবিবার | ০৫:০৫ মি. | ০৬:০৩ মি. |
| ১২ | ০২ মার্চ | সোমবার | ০৫:০৪ মি. | ০৬:০৩ মি. |
| ১৩ | ০৩ মার্চ | মঙ্গলবার | ০৫:০৩ মি. | ০৬:০৪ মি. |
| ১৪ | ০৪ মার্চ | বুধবার | ০৫:০২ মি. | ০৬:০৪ মি. |
| ১৫ | ০৫ মার্চ | বৃহস্পতিবার | ০৫:০১ মি. | ০৬:০৫ মি. |
| ১৬ | ০৬ মার্চ | শুক্রবার | ০৫:০০ মি. | ০৬:০৫ মি. |
| ১৭ | ০৭ মার্চ | শনিবার | ০৪:৫৯ মি. | ০৬:০৬ মি. |
| ১৮ | ০৮ মার্চ | রবিবার | ০৪:৫৮ মি. | ০৬:০৬ মি. |
| ১৯ | ০৯ মার্চ | সোমবার | ০৪:৫৭ মি. | ০৬:০৭ মি. |
| ২০ | ১০ মার্চ | মঙ্গলবার | ০৪:৫৭ মি. | ০৬:০৭ মি. |
শেষ ১০ দিন: নাজাতের দশক
| রোজা | তারিখ | বার | সেহরির শেষ সময় | ইফতারের সময় |
| ২১ | ১১ মার্চ | বুধবার | ০৪:৫৬ মি. | ০৬:০৭ মি. |
| ২২ | ১২ মার্চ | বৃহস্পতিবার | ০৪:৫৫ মি. | ০৬:০৮ মি. |
| ২৩ | ১৩ মার্চ | শুক্রবার | ০৪:৫৪ মি. | ০৬:০৮ মি. |
| ২৪ | ১৪ মার্চ | শনিবার | ০৪:৫৩ মি. | ০৬:০৯ মি. |
| ২৫ | ১৫ মার্চ | রবিবার | ০৪:৫২ মি. | ০৬:০৯ মি. |
| ২৬ | ১৬ মার্চ | সোমবার | ০৪:৫১ মি. | ০৬:১০ মি. |
| ২৭ | ১৭ মার্চ | মঙ্গলবার | ০৪:৫০ মি. | ০৬:১০ মি. |
| ২৮ | ১৮ মার্চ | বুধবার | ০৪:৪৯ মি. | ০৬:১০ মি. |
| ২৯ | ১৯ মার্চ | বৃহস্পতিবার | ০৪:৪৮ মি. | ০৬:১১ মি. |
| ৩০ | ২০ মার্চ | শুক্রবার | ০৪:৪৭ মি. | ০৬:১১ মি. |
অন্যান্য জেলার সময়ের পার্থক্য
ঢাকার সময়ের সাথে যোগ (+) বা বিয়োগ (-) করে আপনার জেলার সময় মিলিয়ে নিন:
- ঢাকার সময় থেকে বিয়োগ করবেন:
- চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ফেনী: -৩ থেকে -৫ মিনিট।
- সিলেট, কুমিল্লা, নোয়াখালী: -১ থেকে -৬ মিনিট।
- ঢাকার সময়ের সাথে যোগ করবেন:
- গাজীপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ: +১ থেকে +৩ মিনিট।
- খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী, রংপুর: +৪ থেকে +৮ মিনিট।
- দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও: +১০ থেকে +১২ মিনিট।
রোজার নিয়ত ও ইফতারের দোয়া
রোজার নিয়ত (আরবি)
نَوَيْتُ اَنْ اُصُوْمَ غَدًا مِّنْ شَهْرِ رَمْضَانَ الْمُبَارَكِ فَرْضًا لَكَ يَا اللهُ فَتَقَبَّل مني إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيم
বাংলা উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম মিন শাহরি রমজানাল মুবারাকি ফারদাল্লাকা, ইয়া আল্লাহু ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নাকা আনতাস সামিউল আলিম।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আগামীকাল পবিত্র রমজানের তোমার পক্ষ থেকে ফরজ রোজা রাখার নিয়ত করলাম, তাই তুমি আমার পক্ষ থেকে তা কবুল কর, নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।
ইফতারের দোয়া (আরবি)
اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ
বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকা ছুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা আফতারতু।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি তোমারই সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই দেওয়া রিজিক দিয়ে ইফতার করছি।
বিঃদ্রঃ চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে রোজা শুরু ও শেষের তারিখ একদিন কম-বেশি হতে পারে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চূড়ান্ত ঘোষণার দিকে লক্ষ্য রাখার অনুরোধ রইল।
আমি মারুফ, গত ৫ বছর ধরে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্র্যান্ডিং এবং কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করছি। বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে আমি দেখেছি কিভাবে একটি ছোট স্লোগান একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে।