হাতে থাকা স্মার্টফোনটি দিয়ে আজ অনেকেই সফল কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। আপনি কি জানেন, ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করার জন্য এখন আর দামী ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের প্রয়োজন নেই? সঠিক নিয়মে মোবাইল দিয়ে ইউটিউব চ্যানেল খুলে আপনিও আপনার প্রতিভা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিতে পারেন এবং আয় করতে পারেন।
আজকে আমি জানাবো কিভাবে ২০২৬ সালের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, খুব সহজে এবং প্রফেশনাল উপায়ে মোবাইল দিয়ে একটি ব্র্যান্ড ইউটিউব চ্যানেল খোলা যায়।
মোবাইল দিয়ে ইউটিউব চ্যানেল খোলার নিয়ম
মোবাইল দিয়ে ইউটিউব চ্যানেল খোলার ৪টি সহজ ধাপ: ১. মোবাইলের YouTube অ্যাপ ওপেন করুন এবং একটি Gmail আইডি দিয়ে সাইন-ইন করুন। ২. ডানদিকের কোণায় প্রোফাইল আইকনে ক্লিক করে ‘Create a Channel’ অপশনে যান। ৩. আপনার চ্যানেলের জন্য একটি সুন্দর নাম এবং হ্যান্ডেল (@Handle) ঠিক করুন। ৪. প্রোফাইল ছবি আপলোড করে ‘Create Channel’ বাটনে ক্লিক করলেই চ্যানেল তৈরি হয়ে যাবে।
(বিস্তারিত সেটিং ও ভেরিফিকেশন নিচে আলোচনা করা হলো)
শুরু করার আগে যা যা প্রয়োজন
চ্যানেল খোলার আগে এই ৩টি জিনিস প্রস্তুত রাখুন:
- একটি সচল স্মার্টফোন (Android বা iPhone)।
- একটি ভেরিফাইড Gmail অ্যাকাউন্ট (পুরানো আইডির চেয়ে নতুন আইডি দিয়ে চ্যানেল খোলা নিরাপদ)।
- চ্যানেলের জন্য একটি ইউনিক নাম (যা সহজে মনে রাখা যায়)।
জিমেইল অ্যাকাউন্ট তৈরি ও সাইন-ইন
ইউটিউব গুগলেরই একটি সার্ভিস, তাই চ্যানেল খোলার জন্য জিমেইল বাধ্যতামূলক।
- আপনার ফোনে যদি আগে থেকেই জিমেইল লগইন করা থাকে, তবে সেটি ব্যবহার করতে পারেন।
- তবে, প্রফেশনাল কাজের জন্য একটি নতুন জিমেইল আইডি খুলে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। এতে হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি কমে এবং ব্র্যান্ডিং ঠিক থাকে।
ইউটিউব অ্যাপ থেকে চ্যানেল সেটআপ
এখন আমরা মূল কাজে যাবো। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
১. অ্যাপ ওপেন করুন: আপনার মোবাইলের অফিসিয়াল YouTube অ্যাপে যান। ২. প্রোফাইল মেনু: অ্যাপের নিচে ডানদিকে অথবা উপরে ডানদিকে থাকা ‘You’ বা প্রোফাইল ছবিতে ট্যাপ করুন। ৩. চ্যানেল তৈরি: এখানে “Create a Channel” লেখা একটি অপশন পাবেন, সেখানে ক্লিক করুন। ৪. তথ্য পূরণ: * Picture: আপনার লোগো বা নিজের ছবি দিন। * Name: আপনার চ্যানেলের নাম লিখুন (যেমন: Travel with Rakib)। * Handle: এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি আপনার চ্যানেলের ইউনিক লিংক (যেমন: @rakibtravels26)। ৫. ফাইনাল ক্লিক: সব ঠিক থাকলে নিচে ‘Create Channel’ বাটনে চাপ দিন। ব্যাস! আপনার চ্যানেল তৈরি।
চ্যানেল ভেরিফিকেশন (খুবই গুরুত্বপূর্ণ)
চ্যানেল খোলার পর সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো ফোন নম্বর ভেরিফিকেশন। এটি না করলে আপনি ১৫ মিনিটের বড় ভিডিও আপলোড করতে পারবেন না এবং ভিডিওতে কাস্টম থাম্বনেইল (Custom Thumbnail) দিতে পারবেন না।
মোবাইল দিয়ে ভেরিফাই করার নিয়ম: ১. গুগল ক্রোম (Chrome) ব্রাউজার ওপেন করুন। ২. ব্রাউজারের ডানদিকের ৩টি ডটে ক্লিক করে ‘Desktop Site’ মোড অন করে নিন। ৩. এড্রেস বারে লিখুন studio.youtube.com এবং এন্টার দিন। ৪. একদম নিচে বাম কোণায় একটি সেটিংস (Settings ⚙️) আইকন দেখতে পাবেন, সেখানে ক্লিক করুন। ৫. Channel > Feature Eligibility অপশনে যান। ৬. সেখানে ‘Intermediate features’ অপশনের পাশে তীর চিহ্নে ক্লিক করে ‘Verify phone number’-এ চাপ দিন। ৭. আপনার মোবাইল নম্বর দিন এবং SMS-এ আসা কোডটি বসালেই চ্যানেল ভেরিফাইড হয়ে যাবে।
এসইও (SEO) এবং প্রফেশনাল লুক দেওয়া
চ্যানেলটি যাতে মানুষ সার্চ করে খুঁজে পায় এবং Google Discover-এ যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে, তার জন্য কিছু কাস্টমাইজেশন জরুরি।
১. চ্যানেল ডেসক্রিপশন (Description)
চ্যানেলের ‘About’ সেকশনে সুন্দর করে লিখুন আপনি কী ধরনের ভিডিও বানাবেন। এখানে আপনার মেইন কিওয়ার্ডগুলো ব্যবহার করুন।
- উদাহরণ: “আসসালামু আলাইকুম, এই চ্যানেলে আপনারা মোবাইল ফটোগ্রাফি টিপস এবং টেক রিভিউ ভিডিও পাবেন…”
২. সঠিক ক্যাটাগরি নির্বাচন
Chrome ব্রাউজারের সেটিংস থেকে Upload defaults > Advanced settings-এ গিয়ে আপনার চ্যানেলের সঠিক ক্যাটাগরি (যেমন: Education, Comedy, People & Blogs) সিলেক্ট করুন। এটি AI-কে বোঝাতে সাহায্য করে আপনার ভিডিও কাদের দেখানো উচিত।
৩. ইউটিউব স্টুডিও অ্যাপ (YT Studio)
মোবাইলে চ্যানেল ম্যানেজ করার জন্য প্লে-স্টোর থেকে ‘YouTube Studio’ অ্যাপটি নামিয়ে নিন। এখান থেকে ভিডিওর ভিউ, সাবস্ক্রাইবার এবং ইনকাম দেখা যায়।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
পাঠকদের মনে এই বিষয়গুলো নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে:
১. ইউটিউব চ্যানেল খুলতে কি টাকা লাগে?
না, ইউটিউব চ্যানেল খুলতে কোনো টাকা লাগে না। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।
২. মোবাইল দিয়ে ভিডিও আপলোড করে কি ইনকাম করা যায়?
অবশ্যই। বিশ্বের বড় বড় অনেক ইউটিউবার শুধুমাত্র মোবাইল দিয়ে ভিডিও বানিয়ে লক্ষ টাকা আয় করছেন। কন্টেন্ট ভালো হলে ডিভাইস কোনো বাধা নয়।
৩. ইউটিউব থেকে টাকা আয় করার শর্ত কী?
ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম (YPP) অনুযায়ী, শেষ ৩৬৫ দিনে ১০০০ সাবস্ক্রাইবার এবং ৪০০০ ঘণ্টা ওয়াচ টাইম পূর্ণ হলে আপনি মনিটাইজেশনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। (শর্তসাপেক্ষে শর্টস ভিডিওর ভিউ দিয়েও মনিটাইজেশন সম্ভব)।
৪. পার্সোনাল নাকি ব্র্যান্ড অ্যাকাউন্ট – কোনটি ভালো?
ভবিষ্যতে যদি চ্যানেলের এক্সেস অন্য কাউকে (যেমন এডিটর) দিতে চান, তবে ব্র্যান্ড অ্যাকাউন্ট (Brand Account) খোলা ভালো। তবে শুরুতে পার্সোনাল চ্যানেল দিয়ে শুরু করে পরে সেটিকে ব্র্যান্ড অ্যাকাউন্টে কনভার্ট করা যায়।
শেষকথা ও পরামর্শ
নতুন ইউটিউবার হিসেবে শুরুতে ভিডিওর কোয়ালিটির চেয়ে অডিও কোয়ালিটি এবং ধারাবাহিকতার দিকে বেশি নজর দিন। অ্যালগরিদম সেই চ্যানেলগুলোকেই প্রমোট করে যারা নিয়মিত কন্টেন্ট আপলোড করে। এছাড়া, ভিডিওর টাইটেল এবং থাম্বনেইল আকর্ষণীয় করার চেষ্টা করুন, কারণ এটিই ভিউ বাড়ানোর প্রধান চাবিকাঠি।
আমি মারুফ, গত ৫ বছর ধরে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্র্যান্ডিং এবং কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করছি। বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে আমি দেখেছি কিভাবে একটি ছোট স্লোগান একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে।