আপনি কি কোনো অনলাইন কেনাকাটা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা বা বিদেশে চিঠি পাঠানোর জন্য আপনার এলাকার পোস্টাল কোড খুঁজছেন? কিন্তু বুঝতে পারছেন না যে পোস্ট কোড কিভাবে বের করব? চিন্তার কিছু নেই! বর্তমান সময়ে আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোন ব্যবহার করেই মাত্র কয়েক সেকেন্ডে যেকোনো জায়গার পোস্ট কোড বের করা সম্ভব।
পোস্ট কোড কিভাবে বের করব? (দ্রুত উত্তর)
আপনার এলাকার পোস্ট কোড বা পোস্টাল কোড বের করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID Card)-এর পেছনের অংশ দেখা। সেখানে আপনার স্থায়ী ঠিকানার পাশে ৪ ডিজিটের একটি কোড লেখা থাকে, সেটিই আপনার পোস্টাল কোড। এছাড়া অনলাইনে বের করতে চাইলে গুগলে আপনার “এলাকার নাম + Post Code” লিখে সার্চ করলে তাৎক্ষণিক উত্তর পেয়ে যাবেন।
পোস্টাল কোড বা পোস্ট কোড কি?
পোস্ট কোড (Post Code) হলো একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকাকে চিহ্নিত করার জন্য ব্যবহৃত সংখ্যার সমষ্টি। এটিকে অনেকে পোস্টাল কোড বা ডাকঘর সূচকও বলে থাকেন। বাংলাদেশে সাধারণত ৪ ডিজিটের পোস্ট কোড ব্যবহার করা হয়। এটি ডাক বিভাগের চিঠি বা পার্সেল দ্রুত এবং নির্ভুল ঠিকানায় পৌঁছাতে সাহায্য করে।
নিজের এলাকার পোস্ট কোড জানার ৩টি কার্যকর পদ্ধতি
আপনি যদি জানতে চান আপনার নিজের এলাকার পোস্ট কোড কত, তবে নিচের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করতে পারেন:
১. এনআইডি (NID) কার্ড চেক করা
আমাদের সবার কাছে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্ট কার্ডের পেছনে ঠিকানা দেওয়া থাকে। সেই ঠিকানার একেবারে শেষে ৪টি সংখ্যা থাকে (যেমন: ১২১২, ১২০৫)। এটিই আপনার এলাকার অফিসিয়াল পোস্টাল কোড। এটি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম।
২. অনলাইন পোস্ট কোড চেক (গুগল সার্চ)
আপনি যদি বর্তমান ঠিকানার পোস্ট কোড জানতে চান, তবে:
- আপনার ফোনের ব্রাউজার ওপেন করুন।
- সার্চ বারে লিখুন: “Post code of [আপনার এলাকার নাম]”। (যেমন: Post code of Dhanmondi)
- গুগল ম্যাপ বা উইকিপিডিয়া থেকে আপনি সরাসরি কোডটি পেয়ে যাবেন।
৩. বাংলাদেশ ডাক বিভাগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ব্যবহার
সবচেয়ে নির্ভুল এবং আপডেটেড তথ্যের জন্য আপনি ডাক বিভাগের ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে পারেন।
- প্রথমে bdpost.gov.bd লিংকে যান।
- ‘Post Code’ বা ‘Postal Code Search’ অপশনে ক্লিক করুন।
- আপনার জেলা এবং ডাকঘরের নাম সিলেক্ট করলেই কোডটি স্ক্রিনে ভেসে উঠবে।
জিপ কোড (Zip Code) এবং পোস্ট কোড কি এক?
অনেকেই জানতে চান জিপ কোড এবং পোস্টাল কোড এর মধ্যে পার্থক্য কী? সহজ উত্তর হলো উভয়ই একই কাজের জন্য ব্যবহৃত হয়। আমেরিকাতে একে বলা হয় ZIP Code, আর বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে একে বলা হয় Postal Code বা Post Code। তাই ইন্টারনেটে কোথাও জিপ কোড চাইলে আপনি আপনার পোস্টাল কোডটিই ব্যবহার করতে পারবেন।
বাংলাদেশের প্রধান কিছু এলাকার পোস্ট কোড তালিকা
নিচে উদাহরণস্বরূপ বাংলাদেশের কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকার পোস্ট কোড দেওয়া হলো:
| জেলা/এলাকা | ডাকঘর | পোস্ট কোড |
| ঢাকা | জিপিও (GPO) | ১০০০ |
| ঢাকা | ধানমন্ডি | ১২০৯ |
| ঢাকা | মিরপুর | ১২১৬ |
| চট্টগ্রাম | প্রধান ডাকঘর | ৪০০০ |
| সিলেট | প্রধান ডাকঘর | ৩১০০ |
| রাজশাহী | প্রধান ডাকঘর | ৬০০০ |
পোস্ট কোড কেন প্রয়োজন হয়?
বর্তমান ডিজিটাল যুগে পোস্ট কোডের গুরুত্ব অনেক। এর প্রয়োজন হয় যখন আপনি:
- অনলাইনে (Amazon, Daraz) কোনো পণ্য অর্ডার করেন।
- ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা পাসপোর্ট আবেদন করেন।
- বিদেশে কোনো চিঠি বা পার্সেল পাঠান।
- গুগল অ্যাডসেন্স বা কোনো অনলাইন ভেরিফিকেশন কোড রিসিভ করেন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
১. পোস্টাল কোড ভুল হলে কি পার্সেল পৌঁছাবে?
পোস্টাল কোড ভুল হলে পার্সেল পৌঁছাতে দেরি হতে পারে বা ভুল ঠিকানায় চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে এলাকা বা থানার নাম সঠিক থাকলে অনেক সময় ডাকপিয়ন তা খুঁজে বের করতে পারেন।
২. ঢাকার পোস্ট কোড কত?
পুরো ঢাকার একটি নির্দিষ্ট কোড নেই। একেক এলাকার কোড একেক রকম। যেমন: বনানী ১২১৩, গুলশান ১২১২। তবে ঢাকার প্রধান জিপিও-র কোড ১০০০।
৩. আমি কি গুগল ম্যাপ থেকে পোস্ট কোড পেতে পারি?
হ্যাঁ, গুগল ম্যাপে কোনো নির্দিষ্ট ঠিকানায় ক্লিক করলে বা পিন ড্রপ করলে অনেক সময় পূর্ণাঙ্গ ঠিকানার সাথে পোস্ট কোডটি দেখা যায়।
উপসংহার
আশা করি, পোস্ট কোড কিভাবে বের করব বা নিজের এলাকার পোস্টাল কোড জানার নিয়ম সম্পর্কে আপনার সকল দ্বিধা দূর হয়েছে। সবসময় চেষ্টা করবেন আপনার এনআইডি কার্ডে দেওয়া সঠিক কোডটি ব্যবহার করতে। যদি আমাদের এই তথ্যগুলো আপনার উপকারে আসে, তবে আর্টিকেলটি অন্যদের সাথে শেয়ার করুন।
তথ্যসূত্র:
- বাংলাদেশ ডাক বিভাগ (Bangladesh Post Office) অফিসিয়াল পোর্টাল।
- নির্বাচন কমিশন (NID Service) বাংলাদেশ।
আমি মারুফ, গত ৫ বছর ধরে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্র্যান্ডিং এবং কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করছি। বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে আমি দেখেছি কিভাবে একটি ছোট স্লোগান একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে।