মসজিদ কমিটি গঠনের রেজুলেশন লেখার নিয়ম

মসজিদ কমিটি গঠনের রেজুলেশন হলো এমন একটি দাপ্তরিক দলিল যেখানে কমিটির নির্বাচন প্রক্রিয়া, সদস্যদের নাম এবং উপস্থিত ব্যক্তিদের সম্মতির প্রমাণ থাকে। এটি মূলত ব্যাংকিং কাজ, সরকারি নিবন্ধন (যেমন: সমাজসেবা অধিদপ্তর বা ইসলামিক ফাউন্ডেশন) এবং আইনি প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়।

রেজুলেশন লেখার মূল ধাপসমূহ

আপনি যদি দ্রুত উত্তর খুঁজছেন, তবে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:

  • সভার শিরোনাম ও তারিখ: সভার উদ্দেশ্য, সময় ও স্থান স্পষ্টভাবে লিখুন।
  • উপস্থিতি: কতজন উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের স্বাক্ষর গ্রহণ করুন।
  • সভাপতি নির্বাচন: সভায় সভাপতিত্ব কে করবেন তা নির্ধারণ করুন।
  • আলোচনা ও সিদ্ধান্ত: পুরাতন কমিটি বিলুপ্ত করা এবং নতুন কমিটি গঠনের প্রস্তাব।
  • কমিটির তালিকা: সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষসহ পূর্ণাঙ্গ কমিটির নাম।
  • সমাপ্তি ও অনুমোদন: উপস্থিত সদস্যদের সমর্থন নিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা।

কেন সঠিক রেজুলেশন জরুরি?

অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা যায়, অনেক সময় ভুলভাবে রেজুলেশন লেখার কারণে মসজিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে সমস্যা হয়। একটি শক্তিশালী রেজুলেশন কমিটির স্বচ্ছতা বজায় রাখে এবং ভবিষ্যতে কোনো আইনি জটিলতা তৈরি হতে দেয় না।

রেজুলেশন লেখার ধাপসমূহ

ধাপ ১: সভার শিরোনাম ও সাধারণ তথ্য

রেজুলেশন খাতার উপরে সভার ক্রমিক নম্বর, তারিখ, সময় এবং সভার স্থান (যেমন: মসজিদের বারান্দা বা নির্দিষ্ট কোনো হল) উল্লেখ করতে হবে।

ধাপ ২: হাজিরা বা উপস্থিতি গ্রহণ

সভায় উপস্থিত সকল মুসল্লি বা সাধারণ সদস্যদের নাম ও স্বাক্ষর নিতে হবে। এটি প্রমান করে যে কমিটিটি সবার সম্মতিক্রমে গঠিত হয়েছে।

ধাপ ৩: সভার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

শুরুতেই সভার উদ্দেশ্য লিখতে হবে। যেমন— “পুরাতন কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন মসজিদ পরিচালনা কমিটি গঠন।”

ধাপ ৪: কমিটির গঠন ও পদবি বণ্টন

আলোচনার ভিত্তিতে যোগ্য ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট পদে মনোনীত করুন। সাধারণত একটি কমিটিতে সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ এবং ৫-৭ জন সদস্য থাকে।

মসজিদ কমিটি গঠনের রেজুলেশন লেখার নমুনা

নিচে একটি আদর্শ ফরম্যাট দেওয়া হলো যা আপনি সরাসরি ব্যবহার করতে পারেন:

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম

সভার স্থান: [মসজিদের নাম ও ঠিকানা]

সভার তারিখ: [তারিখ লিখুন]

সময়: [সময় লিখুন]

সভার বিষয়: নতুন মসজিদ পরিচালনা কমিটি গঠন প্রসঙ্গে।

আজ [তারিখ] রোজ [বারের নাম] বা’দ আছর [মসজিদের নাম] এর সাধারণ মুসল্লি ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে এক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে জনাব [ব্যক্তির নাম] সভাপতি হিসেবে মনোনীত হন।

আলোচনা ও সিদ্ধান্তসমূহ:

১. সভায় বিগত কমিটির কার্যাবলী পর্যালোচনা করা হয় এবং মেয়াদ শেষ হওয়ায় তা বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

২. উপস্থিত সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে আগামী [মেয়াদ, যেমন- ২ বছর] এর জন্য একটি নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়।

৩. নতুন কমিটি মসজিদের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং হিসাব-নিকাশ স্বচ্ছতার সাথে পরিচালনা করবে বলে অঙ্গীকার করে।

নতুন কমিটির তালিকা:

  • সভাপতি: [নাম]
  • সহ-সভাপতি: [নাম]
  • সাধারণ সম্পাদক: [নাম]
  • যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক: [নাম]
  • কোষাধ্যক্ষ: [নাম]
  • ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক: [নাম]
  • কার্যনির্বাহী সদস্য: (নামগুলোর তালিকা)

পরিশেষে আর কোনো আলোচনা না থাকায় সভাপতি উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

স্বাক্ষর:

(সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর ও সিল)

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

১. মসজিদ কমিটিতে সর্বনিম্ন কতজন সদস্য থাকা প্রয়োজন?

সাধারণত ৭ থেকে ১১ জন সদস্য নিয়ে একটি ছোট কমিটি গঠন করা যায়। তবে বড় মসজিদের ক্ষেত্রে এটি ২১ বা ৩১ সদস্যের হতে পারে।

২. রেজুলেশন কি হাতে লিখতে হয় নাকি টাইপ করতে হয়?

রেজুলেশন সাধারণত রেজুলেশন খাতায় হাতে লিখে সকল সদস্যদের স্বাক্ষর নিতে হয়। তবে ব্যাংক বা সরকারি কাজের জন্য সেই হাতে লেখা কপির ফটোকপি বা টাইপ করা সত্যায়িত কপি প্রয়োজন হতে পারে।

৩. কমিটির মেয়াদ কতদিন হওয়া উচিত?

সাধারণত ২ থেকে ৩ বছর। মেয়াদ শেষে আবার নতুন রেজুলেশনের মাধ্যমে কমিটি নবায়ন করতে হয়।

শেষকথা

একটি সুন্দর সমাজ গঠনে মসজিদের ভূমিকা অপরিসীম, আর সেই মসজিদ পরিচালনার জন্য প্রয়োজন একটি নিয়মতান্ত্রিক কমিটি। উপরের নিয়ম ও নমুনা অনুসরণ করে আপনি খুব সহজেই একটি শক্তিশালী রেজুলেশন তৈরি করতে পারবেন।

Leave a Comment