পুলিশ ক্লিয়ারেন্স কি কি কাগজ লাগে?

বিদেশ যাত্রা বা চাকরির প্রয়োজনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (PCC) একটি অপরিহার্য দলিল। কিন্তু সঠিক তথ্যের অভাবে অনেক সময় আবেদন বাতিল হয়ে যায়। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ২০২৬ সালের সর্বশেষ নিয়ম অনুযায়ী পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পেতে কি কি কাগজ লাগে এবং আবেদনের সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো।

পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য মূলত ৪টি প্রধান কাগজ বা তথ্য প্রয়োজন হয়:

  • পাসপোর্ট (Passport): মূল পাসপোর্টের স্ক্যান কপি (অবশ্যই মেয়াদ থাকতে হবে)।
  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): এনআইডি কার্ড অথবা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি।
  • ব্যাংক চালান (Bank Challan): সোনালী ব্যাংকের ৫০০ টাকার চালানের কপি (অনলাইনেও দেওয়া যায়)।
  • ছবি: আবেদনকারীর রঙিন ডিজিটাল ছবি।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: আপনার পাসপোর্টে উল্লিখিত ঠিকানার ওপর ভিত্তি করে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়। তাই বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা পাসপোর্টের সাথে মিল থাকা জরুরি।

পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ

ইউজারদের সুবিধার্থে নিচে প্রতিটি কাগজের প্রয়োজনীয়তা ও শর্তাবলী বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. পাসপোর্টের কপি (বাধ্যতামূলক)

আবেদনকারীর পাসপোর্টের তথ্য পাতার (Information Page) একটি পরিষ্কার স্ক্যান কপি প্রয়োজন। পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ৩ থেকে ৬ মাস থাকা নিরাপদ। যদি আপনি দেশের বাইরে থাকেন, তবে পাসপোর্টের তথ্য পাতাটি সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেট থেকে সত্যায়িত করে নিতে হবে।

২. ৫০০ টাকার ব্যাংক চালান

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ফি হিসেবে ৫০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হয়। এটি আপনি দুইভাবে করতে পারেন:

  • সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় গিয়ে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে (কোড: ১-২২১১-০০০০-২৬৮১)।
  • অনলাইন পেমেন্ট: একপে (Ekpay) বা ই-চালানের মাধ্যমে বিকাশ, নগদ বা কার্ড ব্যবহার করে টাকা জমা দিয়ে সেই স্লিপটি ডাউনলোড করে রাখা।

৩. এনআইডি বা জন্ম নিবন্ধন

সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) প্রয়োজন। তবে যাদের এনআইডি নেই, তারা ডিজিটাল বা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করতে পারবেন।

৪. রঙিন ছবি ও মোবাইল নম্বর

আবেদনের সময় একটি পাসপোর্ট সাইজের ডিজিটাল ছবি আপলোড করতে হয়। এছাড়া একটি সচল মোবাইল নম্বর প্রয়োজন যেখানে ভেরিফিকেশন কোড (OTP) এবং আবেদনের আপডেট আসবে।

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স আবেদন করার সঠিক নিয়ম

শুধুমাত্র কাগজ থাকলেই হবে না, আবেদনের প্রসেসটিও জানতে হবে:

  1. রেজিস্ট্রেশন: প্রথমে বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট pcc.police.gov.bd এ গিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট খুলুন।
  2. ফরম পূরণ: আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, পাসপোর্টের তথ্য এবং ঠিকানার তথ্য নির্ভুলভাবে দিন।
  3. ডকুমেন্ট আপলোড: স্ক্যান করা পাসপোর্ট কপি এবং চালানের কপি নির্দিষ্ট স্থানে আপলোড করুন।
  4. সাবমিট: সব তথ্য যাচাই করে আবেদনটি সাবমিট করুন।
  5. ভেরিফিকেশন: সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ আপনার তথ্য যাচাই করবে। অনেক সময় তারা আপনার সাথে ফোনে যোগাযোগ করে কিছু তথ্য বা অরিজিনাল কাগজ দেখতে চাইতে পারে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নসমূহ

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পেতে কত দিন লাগে?

সাধারণত আবেদন করার পর ৭ থেকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পাওয়া যায়। তবে জরুরি প্রয়োজনে বা ঢাকার বাইরে জেলা পর্যায়ে সময় কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স আবেদনের বর্তমান স্ট্যাটাস চেক করবেন কীভাবে?

আপনি যে ওয়েবসাইট থেকে আবেদন করেছেন, সেখানে লগইন করে ‘My Account’ সেকশনে গেলেই আপনার আবেদনের বর্তমান অবস্থা (Pending, In-Progress, or Delivered) দেখতে পাবেন।

চালান কপি কি সত্যায়িত করতে হয়?

না, বর্তমানে ই-চালান বা অনলাইন চালানের কপি সত্যায়িত করার প্রয়োজন হয় না। তবে ম্যানুয়াল চালান হলে ব্যাংকের সিল ও স্বাক্ষর স্পষ্ট থাকতে হবে।

কমন ভুলগুলো এড়িয়ে চলুন

অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দেখা গেছে, অধিকাংশ আবেদন বাতিল হয় ঠিকানা ভুলের কারণে।

  • টিপস ১: পাসপোর্টের জরুরি যোগাযোগের ঠিকানায় যা দেওয়া আছে, আবেদনের স্থায়ী ঠিকানায় সেটিই দেওয়ার চেষ্টা করুন।
  • টিপস ২: আপনার নামে যদি থানায় কোনো ফৌজদারি মামলা থাকে, তবে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পেতে সমস্যা হতে পারে।
  • টিপস ৩: স্ক্যান করা কাগজগুলো যেন পরিষ্কার এবং পঠনযোগ্য হয় (PDF বা JPG ফরম্যাটে)।

আপনার আরও যা জানা প্রয়োজন

প্রশ্ন: আমি কি বিদেশে বসে আবেদন করতে পারব?

উত্তর: হ্যাঁ, আপনি প্রবাসে থাকলেও অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে আপনার পাসপোর্ট কপিটি ওই দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে সত্যায়িত করে নিতে হবে।

প্রশ্ন: পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের মেয়াদ কতদিন?

উত্তর: ইস্যু হওয়ার তারিখ থেকে সাধারণত ৩ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত এই সার্টিফিকেটের মেয়াদ থাকে।

প্রশ্ন: সত্যায়ন (Attestation) কি সবার জন্য লাগে?

উত্তর: না, সাধারণ নাগরিকদের জন্য পাসপোর্ট বা এনআইডি সত্যায়িত করার প্রয়োজন নেই। তবে প্রবাসীদের ক্ষেত্রে দূতাবাস সত্যায়ন বাধ্যতামূলক।

শেষ কথা পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পাওয়া এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ ও স্বচ্ছ। সঠিক কাগজপত্রের তালিকা সাথে থাকলে আপনি নিজেই ঘরে বসে আবেদন করতে পারবেন। আমাদের দেওয়া তথ্যগুলো সরাসরি সরকারি নির্দেশিকা ও ব্যবহারিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তৈরি।

Leave a Comment