সামাজিক সংগঠনের গঠনতন্ত্রের খসড়া নমুনা

[ সংগঠনের লোগো (যদি থাকে) ] [ সংগঠনের সম্পূর্ণ নাম ] ( [ সংগঠনের স্লোগান (যদি থাকে) ] ) প্রতিষ্ঠার তারিখ: [ তারিখ, মাস, বছর ] প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা: [ সম্পূর্ণ ঠিকানা ]

ধারা ১: মুখবন্ধ ও নামকরণ

১.১ নাম: এই সংগঠনটি “[ সংগঠনের সম্পূর্ণ নাম ]” নামে পরিচিত হবে।

১.২ প্রকৃতি: এটি একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক, অসাম্প্রদায়িক, স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক সংগঠন হিসেবে বিবেচিত হবে।

১.৩ কার্যালয়: সংগঠনের প্রধান কার্যালয় [ ঠিকানা ]-এ অবস্থিত হবে। প্রয়োজনে, কার্যনির্বাহী পরিষদের অনুমোদন সাপেক্ষে দেশের যেকোনো স্থানে বা বিদেশে শাখা কার্যালয় স্থাপন করা যাবে।

১.৪ কার্যএলাকা: [ সংগঠনের কার্যক্রমের ভৌগলিক সীমা, যেমন: সমগ্র বাংলাদেশ / নির্দিষ্ট জেলা / নির্দিষ্ট উপজেলা ]

ধারা ২: লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

এই সংগঠনের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ হবে নিম্নরূপ:

২.১ প্রধান লক্ষ্য: [ সংগঠনের মূল লক্ষ্য, যেমন: সমাজের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা ]

২.২ উদ্দেশ্যসমূহ:

  • দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান এবং শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা।
  • বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প, রক্তদান কর্মসূচি ও স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা।
  • পরিবেশ সুরক্ষা, বৃক্ষরোপণ এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা।
  • দুর্যোগকবলিত এলাকায় ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করা।
  • নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা, ক্ষমতায়ন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কাজ করা।
  • [ আপনার সংগঠনের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যগুলো এখানে যোগ করুন… ]

ধারা ৩: সদস্যপদ

৩.১ সদস্যের প্রকারভেদ: সংগঠনে নিম্নলিখিত শ্রেণীর সদস্য থাকবে:

* সাধারণ সদস্য: [ নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে এবং নির্দিষ্ট চাঁদা প্রদানকারী ]

* আজীবন সদস্য: [ এককালীন নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ অনুদানকারী ]

* দাতা সদস্য: [ সংগঠনকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বা সম্পদ দানকারী ]

* সম্মানসূচক সদস্য: [ সমাজের কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তি যিনি সংগঠনের উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখেন বা রাখতে পারেন ]

৩.২ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা: * [ ন্যূনতম বয়স, যেমন: ১৮ বছর ] বয়সী যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক।

* সংগঠনের আদর্শ, উদ্দেশ্য ও গঠনতন্ত্রের প্রতি আস্থাশীল।

* কার্যনির্বাহী পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত আবেদনপত্র পূরণ এবং নির্দিষ্ট হারে ভর্তি ফি ও মাসিক/বার্ষিক চাঁদা প্রদানে সম্মত।

৩.৩ সদস্যপদ বাতিল/স্থগিত:

* গঠনতন্ত্র বিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত হলে।

* টানা [ যেমন: ৬ মাস ] চাঁদা পরিশোধ না করলে।

* সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কাজ করলে।

* স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে।

* মৃত্যু ঘটলে বা মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ঘোষিত হলে।

ধারা ৪: সাংগঠনিক কাঠামো

সংগঠনের দুটি প্রধান পরিষদ থাকবে: ক) সাধারণ পরিষদ খ) কার্যনির্বাহী পরিষদ

ধারা ৫: সাধারণ পরিষদ

৫.১ গঠন: সংগঠনের সকল সাধারণ ও আজীবন সদস্যদের নিয়ে সাধারণ পরিষদ গঠিত হবে।

৫.২ ক্ষমতা ও দায়িত্ব: * কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন করা।

* বার্ষিক বাজেট, আয়-ব্যয়ের হিসাব ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুমোদন করা।

* সংগঠনের বার্ষিক কার্যক্রম মূল্যায়ন ও অনুমোদন করা।

* গঠনতন্ত্রের যেকোনো ধারা সংশোধন, পরিবর্তন বা বাতিল করা।

* কার্যনির্বাহী পরিষদ কর্তৃক পেশকৃত যেকোনো সুপারিশ বিবেচনা করা।

ধারা ৬: কার্যনির্বাহী পরিষদ

৬.১ গঠন: সাধারণ পরিষদের সদস্যদের ভোটে [ যেমন: ২ বছর ] মেয়াদের জন্য একটি কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠিত হবে। এই পরিষদের সদস্য সংখ্যা [ যেমন: ২১ জন ] হবে, যা নিম্নরূপ:

* সভাপতি: ১ জন

* সহ-সভাপতি: [ যেমন: ২ জন ]

* সাধারণ সম্পাদক: ১ জন

* যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক: [ যেমন: ২ জন ]

* কোষাধ্যক্ষ: ১ জন

* সাংগঠনিক সম্পাদক: ১ জন

* দপ্তর সম্পাদক: ১ জন

* প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক: ১ জন

* শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক: ১ জন

* স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক: ১ জন

* [ অন্যান্য পদ… ]

* কার্যনির্বাহী সদস্য: [ যেমন: ৭ জন ]

৬.২ দায়িত্ব ও কর্তব্য:

* সংগঠনের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা।

* সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা।

* তহবিল সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং ব্যয়ের তদারকি করা।

* সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা।

* সদস্যপদ প্রদান, স্থগিত বা বাতিল করা।

ধারা ৭: পরিষদ সদস্যদের দায়িত্ব (সংক্ষিপ্ত)

  • সভাপতি: সংগঠনের প্রধান হিসেবে সকল সভায় সভাপতিত্ব করবেন এবং সংগঠনের সার্বিক কার্যক্রমের তদারকি করবেন।
  • সাধারণ সম্পাদক: সংগঠনের প্রধান নির্বাহী হিসেবে কাজ করবেন। তিনি সভা আহ্বান, কার্যবিবরণী লিপিবদ্ধকরণ, চিঠিপত্র আদান-প্রদান এবং সভাপতির পরামর্শে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
  • কোষাধ্যক্ষ: সংগঠনের সকল আর্থিক লেনদেন, হিসাবরক্ষণ, ব্যাংক হিসাব পরিচালনা এবং বার্ষিক বাজেট ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রস্তুতের দায়িত্বে থাকবেন।

ধারা ৮: সভা

৮.১ সাধারণ সভা: বছরে অন্তত একবার [ বার্ষিক সাধারণ সভা বা AGM ] অনুষ্ঠিত হবে। [ যেমন: ২১ দিন ]-এর নোটিশে এই সভা আহ্বান করতে হবে।

৮.২ কার্যনির্বাহী সভা: [ যেমন: প্রতি ২ মাসে ] অন্তত একবার কার্যনির্বাহী সভা অনুষ্ঠিত হবে। [ যেমন: ৭ দিন ]-এর নোটিশে এই সভা আহ্বান করতে হবে।

৮.৩ জরুরী সভা: বিশেষ প্রয়োজনে [ যেমন: ২৪ ঘণ্টা ]-এর নোটিশে জরুরী সভা আহ্বান করা যাবে।

৮.৪ কোরাম: * সাধারণ সভার জন্য মোট সদস্যের [ যেমন: এক-তৃতীয়াংশ (১/৩) ]।

* কার্যনির্বাহী সভার জন্য মোট সদস্যের [ যেমন: অর্ধেক (১/২) ]।

ধারা ৯: নির্বাচন

৯.১ কার্যনির্বাহী পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার [ যেমন: ৩০ দিন ] পূর্বে নির্বাচন পরিচালনার জন্য সাধারণ পরিষদ কর্তৃক [ যেমন: ৩ সদস্য ] বিশিষ্ট একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে।

৯.২ এই কমিশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং নির্বাচন পরিচালনা করবে।

৯.৩ সাধারণ সদস্যদের প্রত্যক্ষ/গোপন ব্যালটে কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচিত হবে।

ধারা ১০: আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও তহবিল

১০.১ তহবিলের উৎস:

* সদস্যদের ভর্তি ফি ও মাসিক/বার্ষিক চাঁদা।

* আজীবন সদস্য ও দাতা সদস্যদের এককালীন অনুদান।

* সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অনুদান (কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে)।

* প্রকল্প বাস্তবায়ন থেকে অর্জিত অর্থ।

১০.২ ব্যাংক হিসাব: সংগঠনের নামে এক বা একাধিক তফসিলি ব্যাংকে একটি চলতি/সঞ্চয়ী হিসাব থাকবে। এই হিসাব সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং কোষাধ্যক্ষ এই তিনজনের মধ্যে যেকোনো দুজনের যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হবে।

১০.৩ হিসাব নিরীক্ষা (অডিট): সংগঠনের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নিবন্ধীকরণ কর্তৃপক্ষ (যেমন: সমাজসেবা অধিদপ্তর) কর্তৃক অনুমোদিত অডিট ফার্ম বা ব্যক্তি দ্বারা নিরীক্ষা করাতে হবে এবং তা বার্ষিক সাধারণ সভায় পেশ করতে হবে।

ধারা ১১: গঠনতন্ত্র সংশোধন

সাধারণ পরিষদের [ যেমন: দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) ] সদস্যের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভায় মোট উপস্থিত সদস্যের [ যেমন: দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) ] ভোটের সমর্থনে এই গঠনতন্ত্রের যেকোনো ধারা সংশোধন, সংযোজন বা বাতিল করা যাবে। তবে তা অবশ্যই নিবন্ধীকরণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে কার্যকর হবে।

ধারা ১২: সংগঠনের বিলুপ্তি

যদি কোনো বিশেষ কারণে সংগঠন বিলুপ্ত করার প্রয়োজন হয়, তবে সাধারণ পরিষদের মোট সদস্যের [ যেমন: তিন-চতুর্থাংশ (৩/৪) ] সদস্যের লিখিত সম্মতিতে এবং নিবন্ধীকরণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে তা করা যাবে। বিলুপ্তির পর সংগঠনের সকল দায়-দেনা পরিশোধ শেষে অবশিষ্ট স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি সরকার বা অনুরূপ উদ্দেশ্য কাজ করে এমন কোনো সংগঠনের নিকট হস্তান্তর করা হবে। কোনো অবস্থাতেই তা সদস্যদের মধ্যে বণ্টন করা হবে না।

ধারা ১৩: বিবিধ

গঠনতন্ত্রে উল্লেখ নেই এমন কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজন হলে কার্যনির্বাহী পরিষদ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে, তবে তা অবশ্যই পরবর্তী সাধারণ সভায় অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে এবং তা দেশের প্রচলিত আইনের সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারবে না।

এই খসড়াটি চূড়ান্ত করার পর, সংগঠনের সকল প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যরা এতে স্বাক্ষর করবেন এবং নিবন্ধনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে (যেমন: জেলা সমাজসেবা কার্যালয় বা রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস – আরজেএসসি) জমা দিতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top