আপনি কি জানেন, একটা সংগঠনের সব সিদ্ধান্তকে কাজে লাগানোর জন্য প্রধানত কে কাজ করেন? তিনি হলেন সাধারণ সম্পাদক (General Secretary/Secretary)। সাধারণ সম্পাদক হলেন সংগঠনের প্রধান কাজের লোক, যার মূল কাজ হলো সভাপতির সব কথা ও সিদ্ধান্তগুলোকে রোজকার কাজের মাধ্যমে শেষ করা এবং সংগঠনের সব জরুরি কাগজ গুছিয়ে রাখা। তিনি যেন সংগঠনের ইঞ্জিন বা প্রধান চালক।
আজকের এই লেখায় আমরা একজন সাধারণ সম্পাদকের সব দরকারি কাজ এবং কীভাবে তিনি সংগঠনকে ভালোভাবে চালান, তা খুব সহজে জানব।
সাধারণ সম্পাদকের মূল কাজগুলো কী কী?
একটি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হলেন প্রধান কাজের কর্তা। তার প্রধান ৫টি দায়িত্ব হলো:
- রোজকার কাজ সামলানো: সংগঠনের প্রতিদিনের সব কাজ ও নিয়মকানুন ঠিকভাবে চালানো এবং সব সিদ্ধান্তকে কাজে পরিণত করার ব্যবস্থা করা।
- মিটিং গুছিয়ে রাখা: সভাপতির সাথে কথা বলে মিটিংয়ের আলোচ্য বিষয় ঠিক করা, সবাইকে মিটিং-এর খবর দেওয়া এবং মিটিং-এর সব কথা লিখে রাখা (কার্যবিবরণী)।
- যোগাযোগের দায়িত্ব: সংগঠনের পক্ষ থেকে সব ধরনের চিঠি ও দরকারি কথা আদান-প্রদান করা। তিনিই সব চিঠি গ্রহণ করেন এবং পাঠান।
- কাগজপত্র সংরক্ষণ: সংগঠনের সব জরুরি কাগজ, যেমন – সদস্যের তালিকা, নিয়ম-কানুন (গঠনতন্ত্র) এবং খরচের হিসাবপত্র সাবধানে গুছিয়ে রাখা।
- কাজের হিসাব দেওয়া: সংগঠন কতটা কাজ এগিয়ে নিয়েছে, তার ওপর রিপোর্ট বা প্রতিবেদন তৈরি করে কমিটিতে জানানো।
সাধারণ সম্পাদক কীভাবে সংগঠনকে ভালোভাবে চালান?
একজন সাধারণ সম্পাদককে সফলভাবে কাজ করার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজের কৌশল জানতে হয়:
- সিদ্ধান্ত কার্যকর করা: সভাপতি ও কমিটি যে সিদ্ধান্ত নেয়, তা যেন তাড়াতাড়ি ও সঠিকভাবে কাজ শুরু হয়, সেটা দেখা।
- টাকার কাজে সাহায্য: বাজেট তৈরি বা হিসাব রাখার কাজে কোষাধ্যক্ষকে সাহায্য করা। ব্যাংকের টাকা লেনদেনের জন্য তার সই দরকার হয়।
- সদস্যদের দিয়ে কাজ করানো: সদস্যদের মধ্যে কাজ ভাগ করে দেওয়া এবং তারা ঠিকমতো কাজ করছে কিনা, তা খেয়াল রাখা।
- শৃঙ্খলা বজায় রাখা: সংগঠনের ভেতরের সব কাজ যেন নিয়ম মেনে চলে, সেই দিকে নজর দেওয়া।
সাধারণ সম্পাদক হতে হলে কী কী ভালো গুণ দরকার?
একজন সাধারণ সম্পাদককে সফল হতে গেলে এই গুণগুলো থাকা জরুরি:
- সব কাজ গোছানোর ক্ষমতা: সব কাজ সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখা এবং একইসাথে অনেক কাজ সামলানোর ক্ষমতা।
- ভালো চিঠি লেখার গুণ: স্পষ্ট এবং ভুল ছাড়া চিঠি বা রিপোর্ট লিখতে পারা।
- ছোট বিষয়ে মনোযোগ: নথিপত্র এবং কার্যবিবরণীর মতো ছোট ছোট বিষয়েও ভুল না করার জন্য মনোযোগ দিয়ে কাজ করা।
- সময় জ্ঞান: সময়মতো সব কাজ শেষ করার জন্য সময়কে ঠিকমতো ব্যবহার করার দক্ষতা।
সাধারণ সম্পাদক এবং সভাপতির মধ্যে পার্থক্য কী?
সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের কাজের মধ্যে মূল পার্থক্য নিচে সহজ করে দেওয়া হলো:
| ভূমিকা | সভাপতির কাজ (President) | সাধারণ সম্পাদকের কাজ (General Secretary) |
| প্রধান কাজ | প্রধান নেতা এবং নিয়ম ঠিক করেন। | প্রধান কাজের লোক এবং সব কাজ বাস্তবে করেন। |
| দায়িত্ব | সংগঠনের লক্ষ্য ও দিক ঠিক করে দেন। | ঠিক করা নিয়মগুলো বাস্তবে কাজে লাগান। |
| মিটিংয়ে ভূমিকা | মিটিংয়ের প্রধান হিসেবে বসেন (সভাপতিত্ব)। | মিটিংয়ের সব কথা লিখে রাখেন (কার্যবিবরণী)। |
উপসংহার:
আপনি এখন জানেন, একটি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের কাজ কতটা জরুরি। তিনি হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি সংগঠনের স্বপ্নকে বাস্তবে কাজের রূপ দেন। তার গুছিয়ে কাজ করার ক্ষমতা সংগঠনকে সফল করে তোলে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs)
১. সাধারণ সম্পাদক কি একা সব সিদ্ধান্ত নিতে পারেন?
না, সাধারণ সম্পাদক সব সিদ্ধান্ত একা নিতে পারেন না। তিনি কমিটির নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো কাজে লাগান এবং জরুরি হলে সভাপতির সাথে পরামর্শ করেন।
২. সাধারণ সম্পাদক কতদিনের জন্য পদে থাকেন?
সাধারণত ১ বা ২ বছরের জন্য তাকে পদে রাখা হয়। এটা সংগঠনের নিয়ম অনুযায়ী কম-বেশি হতে পারে।
৩. সাধারণ সম্পাদক কি সংগঠনের টাকার হিসাব রাখেন?
টাকার হিসাব কোষাধ্যক্ষ রাখেন। তবে ব্যাংক থেকে টাকা তোলার জন্য সাধারণ সম্পাদকের সই দরকার হয়। তিনি টাকা-পয়সার কাজগুলো তদারকি করেন।
